বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি: ফিফা সভাপতি

হামজা চৌধুরী, শমিত সোমদের নিয়ে ফুটবলে নতুন দিনের স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ। লাল সবুজদের সে প্রত্যাশার পারদে এবার নতুন আশার বাণী শোনালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বাফুফের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফুটবলে তারা অনেক বিনিযোগ করছে জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা, আশা করি নিকট ভবিষ্যতেই।’সাম্প্রতিক সময়ে নারী দল বেশকিছু সাফল্য এনে দিলেও পুরুষরা সবশেষ বড় কোনো শিরোপা জিতেছিল ২০০৩ সালে— সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়েও অবস্থানটা খুব একটা ভালো নয় লাল সবুজদের। ফিফার ২১১ সদস্যের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৮০তম স্থানে বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামজা, শমিত, মোরসালিনদের নিয়ে নতুন দিনের স্বপ্ন বুনছে দেশের ফুটবল। তাতে ফের সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের সাথে এশিয়ান কাপে খেলার পরিকল্পনা তো রয়েছেই, স্বপ্ন তৈরি হয়েছে একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চেও পা রাখার। সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে আশার বাণী শোনালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও। সোহাগ নামে এক বাংলাদেশি ফুটবল সমর্থকের প্রশ্নের জবাবে ইনফান্তিনো বলেন, ‘অবশ্যই ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারবে (বাংলাদেশ)।’ ফিফা সভাপতির মতে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার বিষয়টি শুধু স্বপ্ন নয়, বরং ফিফার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যগুলোরই একটি অংশ। ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফার লক্ষ্যও তাই, বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া।’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আগামী জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপেই এর প্রমাণ মিলছে। তিনি বলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে আমরা কিছু দল পেয়েছি, যারা আগে কখনও বিশ্বকাপে খেলেনি।’ আরও পড়ুন: ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য ৫০ কোটি আবেদন উদাহরণ হিসেবে ইনফান্তিনো তুলে ধরেন আফ্রিকা অঞ্চল থেকে কেপ ভার্দে, কনকাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাওয়ের কথা। এ ছাড়া এশিয়া থেকে উজবেকিস্তান এবং জর্ডানও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রসঙ্গে আলাদা করে প্রশংসা করে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো দারুণ এক ফুটবল জাতি, যেখানে ফুটবল ক্রমেই বেড়ে উঠছে, অবশ্যই তাদের (বিশ্বকাপে খেলার) সুযোগ আছে।’ ইনফান্তিনো আরও জানান, ফিফা বাংলাদেশের ফুটবলে সরাসরি বিনিয়োগ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ফিফার পক্ষ থেকে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মাধ্যমে বাংলাদেশে অনেক বিনিয়োগ করছি।’ তার মতে, এসব বিনিয়োগের ফলে দেশে ফুটবলের অবকাঠামো ও খেলোয়াড় উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে, পাশাপাশি দারুণ সব মেধাও বেড়ে উঠছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখার প্রত্যাশা জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই দারুণ সব মেধাবী খেলোয়াড় আছে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা, আশা করি নিকট ভবিষ্যতেই (দেখতে পাব)।’ আরও পড়ুন: ভারতকে হারিয়ে আসর শুরু বাংলাদেশের ৩২ দল থেকে বেড়ে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। ভবিষ্যতে হয়তো সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। পরবর্তী আসরগুলোতে ৬৪ দলকে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা বিবেচনায় রেখেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের জন্যেও।