আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুগের অবসানে বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের শেষ রাজা শাহ-র ছেলে রেজা পাহলভি। পাশাপাশি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী গার্ডের ওপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবেই। আমি শুধু ইরানকে স্বাধীন হতে সহায়তা করছি। ইরানের মানুষ ঠিক করবেন তাদের পরবর্তী নেতা কে হবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি বিপ্লবী গার্ডের ওপর সার্জিক্যাল হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বিপ্লবী গার্ডের ওপর হামলা চালালে আমাদের কাজ আরও সহজতর হবে এবং আরও প্রাণহানি আটকানো যাবে।’ আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনে মোসাদপ্রধান ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে নতুন করে রক্তপাত হলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে, এমন সতর্কতা বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসময় ইরানে সামরিক হামলা কেন এড়িয়েছেন এমন প্রশ্নে বলেন, সিদ্ধান্তটি তিনি নিজেই নিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, কেউ আমাকে রাজি করায়নি। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল আটশর বেশি ফাঁসির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কাউকে ফাঁসি দেয়া হয়নি—ফাঁসিগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি আমার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। আরও পড়ুন: আরও দুই মাস ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পরিকল্পনা ইরানের! তবে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেছে সৌদি আরব ও কাতার। দেশ দুটির আশঙ্কা, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হতে পারে। ইসরায়েলও কূটনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতিতে যুক্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউস বলছে, ইরান ইস্যুতে এখনও ‘সব বিকল্প ব্যবস্থা খোলা’ আছে। নতুন করে সহিংসতা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার বার্তা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ইরানে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরবর্তীতে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাতের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনে রূপ নেয়।