খোসাসহ আমন্ডেই মিলবে আসল সুফল

শীত এলেই অনেকের সকালের রুটিনে ঢুকে পড়ে আমন্ড। কেউ ত্বক ভালো রাখার জন্য খান, কেউ আবার সারা বছর খালি পেটে কয়েকটি আমন্ড খাওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করেছেন। উপকার যে হয়, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন আমন্ডের খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া হয়। এই অভ্যাসেই নষ্ট হয়ে যায় বহু মূল্যবান পুষ্টিগুণ। ড্রাই ফ্রুটের দুনিয়ায় আমন্ডের জনপ্রিয়তা আলাদা করে বলার দরকার নেই। কাজু, কিশমিশ, খেজুর কিংবা আখরোট সব কিছুর সঙ্গেই যেন তার নীরব প্রতিযোগিতা। তবু শীতকালে আমন্ড খাওয়ার উপকারিতা একটু বেশি চোখে পড়ে। প্রশ্ন শুধু একটাই আমন্ড কীভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার মিলবে? কাঁচা, ভেজানো না কি খোসা ছাড়িয়ে? খোসাতেই লুকিয়ে আসল শক্তি অনেকে মনে করেন, খোসা ফেলে দিলে আমন্ড আরও পরিষ্কার ও সহজপাচ্য হয়। কিন্তু বাস্তবটা ঠিক উল্টো। আমন্ডের খোসায় রয়েছে প্রচুর ফাইবার, যা হজমের জন্য ভীষণ জরুরি। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে, অপ্রয়োজনীয় খিদে কমে এবং হজমশক্তি ভালো থাকে। শুধু তাই নয়, আমন্ডের খোসায় আছে পলিফেনল নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেলের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। ফলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহের ঝুঁকি কমে, শরীর থাকে সতেজ ও কর্মক্ষম। ত্বকের যত্নেও খোসার ভূমিকা কম নয়। আমন্ড ও তার খোসা দুটিতেই রয়েছে ভিটামিন ই, যা ত্বক ও কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি খোসায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর আমন্ডের খোসায় থাকা ফাইটোকেমিক্যালসের রয়েছে প্রদাহনাশক ও ক্যানসার প্রতিরোধী গুণ। আবার খোসার ফাইবার রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়া আটকায়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বাদাম অত্যন্ত উপকারী। যেভাবে খাবেন প্রতিদিন রাতে ৪-৫টি আমন্ড পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পানি ফেলে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর খোসাসহই খেয়ে নিন। নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখলে হৃদযন্ত্র থেকে শুরু করে ত্বক সবই থাকবে সুস্থ ও উজ্জ্বল। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস বাংলা জেএস/