স্বল্প খরচে বেশি ডিম উৎপাদন এবং প্রতিপালন সহজ হওয়ায় খামারিদের লাভের পথ খুলে দিয়েছে খাকি ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস। এজন্য নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও কলমাকান্দার কৃষকদের ঋণ দিচ্ছে পিকেএসএফ ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা। নেত্রকোনা সদরের খামারি ও উদ্যোক্তাদের জন্য ডিম ও হাঁসের হাটও বাড়াচ্ছে আয়। সহায়তা অব্যাহত রাখলে এই অঞ্চলে হাঁস পালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।হাওড়, নদী আর জলাভূমির জেলা নেত্রকোনা। এই জেলায় প্রাকৃতিক জলাভূমিতে হাঁস পালন নতুন না হলেও কৃষকদের ভাগ্য বদলের গল্প লিখছে খাকি ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস।কম খরচে বেশি লাভ, এমন সম্ভাবনাই দেখাচ্ছে এই হাঁস পালন। বেশি ডিম উৎপাদনের কারণে খাকি ক্যাম্পবেল হাঁস এখন কৃষকদের কাছে লাভজনক প্রকল্প।নেত্রকোনা সদরের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আজিত আলম। মুরগির খামারে লাভের মুখ না দেখায় প্রায় দুই বছর ধরে হাঁস পালন করছেন। স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় হাঁস পালন করে লাভ পাচ্ছেন আজিত আলম।মো. আজিত আলম বলেন, ‘ব্রয়লার পালন করতাম। কিন্তু সেখানে বড় অংকের লোকসান হয়েছে। একবারেই ৮০০ মুরগি মারা গেছে, এতে আমার ২ লাখ টাকার মতন লস হয়েছে। পরে খামারে হাঁস তুললাম। পিকেএসএফ থেকে হাঁস তুলে আমি ভালো লাভবান হয়েছি। গত বছরে হাঁস পেরে প্রায় ৯ লাখ টাকা লাভ হয়েছে আমার।’আরও পড়ুন: নিরাপদ পানির অভাবে হুমকিতে বাগেরহাট আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের বাচ্চা উৎপাদননেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় অন্যতম বড় ডিমের হাট এটি। হাওড় পাড়ে উন্মুক্ত হাঁসের খামারে উৎপাদিত ডিমের একটি বড় অংশ আসে এখানে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার ডিম বেচাকেনা হয়, সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে হাঁসও।ডিম ও হাঁস বিক্রেতারা জানান, হাওড় এলাকায় সব সময় কাজ থাকে না। ফলে আগে বেকার থাকতে হতো। এখন হাঁস পালন করে যে আয় হচ্ছে, তাতে পরিবারের অর্থে জোগানের পাশাপাশি আমিষের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।এদিকে, স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ দেয়ার কথা জানায়। ফলে ডিম ও হাঁসের খামারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন সম্ভাবনা।দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ঐশ্বর্য মজুমদার বলেন, ‘সরবরাহ চেইন মেন্টেইন করার জন্য আমরা লোকাল বাজারের ব্যাপারীদের সঙ্গে খামারিদের লিংকেজ করে দিয়েছি। যাতে খামারের হাঁস বিক্রিযোগ্য হলে তারা সেগুলো নির্বিঘ্নে বিক্রি করতে পারে।’তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্প এলাকায় মোট ২৮টি এগশপ স্থাপন করা হয়েছে। এসব শপের মাধ্যমে খামারিরা তাদের ডিম স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে পারে।’প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের দারিদ্র বিমোচন, কর্মদক্ষতা বাড়াতে কারিগরি প্রশিক্ষণসহ ঋণ ও আর্থিক সহযোগিতায় কাজ করছে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফ। স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এটি বাস্তবায়নে কাজ করছে।পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, ‘পিকেএসএফ তার পার্টনার অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটা রিমোট অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। আমাদের পলিসি হচ্ছে, যত রিমোট, যত অবহেলিত তত ফার্স্টপ্রায়োরিটি পাবে। সহযোগী সংস্থাগুলোকে আমরা অর্থায়ন করি। তাদের সারা দেশে প্রায় ২০ হাজারের মতো শাখা আছে। আর মোট ২ কোটি ২৫ লাখের মতো সদস্য আছে। অনএভারেজ ৭৫ শতাংশ লোক প্রকল্প এলাকায় কাজ করে।’আরও পড়ুন: হাওড়ে হাঁসের খামারে দিন বদলের স্বপ্ন কিশোরগঞ্জের খামারিদেরসহায়তা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলে হাঁস পালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।হাওড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশকে পুঁজি করেই সচ্ছলতার পথ খুঁজে নিচ্ছেন এই অঞ্চলের মানুষ। নানা ধরনের পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বংশ পরম্পরায় চলে আসা হাঁসের খামারেই কাটে তাদের দিনের বেশির ভাগ সময়। যেখানে জীবিকার সঙ্গে মিশে আছে ঐতিহ্য আর টিকে থাকার গল্প।