চট্টগ্রামে নির্বাচনের আগে চোরাগোপ্তা হামলা, আতঙ্কে প্রার্থীরা

জাতীয় নির্বাচনের আগে চোরাগোপ্তা হামলা ও গুলি করে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত চট্টগ্রামের প্রার্থীরা। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া মহড়া ও অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভাবাচ্ছে প্রার্থীসহ নানা মহলকে। গত ১৬ মাসে খুন হয়েছে অন্তত ১১৮ জন। যদিও যৌথবাহিনীর নিয়ত অভিযানে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারসহ নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো বা ঘটছে চোরাগোপ্তা হামলা। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও চট্টগ্রামে তেমন উন্নতি হচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিবর্ষণসহ নানা ঘটনায় বেড়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চোরাগোপ্তা হামলা ও প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা বেড়েই চলছে। সবখানে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রার্থীদের।চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারকে দিতে হবে। এখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড  প্রয়োজন। সেটা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘অস্ত্রশস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আমরা শঙ্কিত। এছাড়া নির্বাচনের মাঠে আর কোনো সমস্যা নেই। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাতে হবে।’প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে শুরু হবে অলিগলিতে প্রচার প্রচারণা। এর আগে অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি প্রার্থীদের।চট্টগ্রাম-৯ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘প্রশাসন অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাবে সেটা প্রত্যাশা করি। আমরা দেখছি প্রশাসন যথেষ্ট কাজ করছে। তাদের আন্তরিকতা আছে।‘চট্টগ্রাম-৭ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বলেন, ‘ভয়ভীতি ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। আমরা হানাহানি চাই না। আমাদের চাওয়া উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হবে।’আরও পড়ুন: চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ ইসিরএদিকে প্রার্থীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক হচ্ছে সান্ত্রীরা। উদ্ধার হচ্ছে লুট হওয়াসহ নানান অস্ত্রশস্ত্র। সমনে আসছে আরও নানান পরিকল্পনা।চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। এ অভিযানে চিহ্নিত অপরাধী গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। এবং নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে আরও কয়েকটি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।’চট্টগ্রাম নগর ছাড়াও রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও সাতকানিয়া ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।আইন শৃঙ্খলাবাহিনী জানায়, ২০২৪ সালে আগস্ট থেকে ২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গত ১৬ মাসে ১১৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে।চট্টগ্রামে অস্ত্র উদ্ধার১. নগরীতে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ৮০০টি২. জেলায় উদ্ধার হয়েছে ৬০০টি৩. র‌্যাব উদ্ধার করেছে ২২০টির৪. মোট  উদ্ধার ১ হাজার ৬২০টিতবে এখনও ১৮৬টির মতো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।