বাউল রশিদ উদ্দিনকে নিয়ে ‘ভাটিবাংলার অধিরাজ’

বাউল কবি রশিদ উদ্দিনের গান লুটের কাহিনী নিয়ে এক শেকড়সন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন লেখক, পর্যটক, নাট্যকার, পরিচালক ও স্থপতি শাকুর মজিদ। ‘এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া’ অথবা ‘শুয়াচান পাখি আমি ডাকিতেছি তুমি ঘুমাইছো নাকি’র মতো আরো অনেক জনপ্রিয় গান লুট হয়ে গেছে বাউল রশিদ উদ্দিনের। এই বাউলকে তার গানের অধিকার ফিরিয়ে দিতেই তার এ প্রামাণ্যচিত্র, এমনটিই বলেছেন নির্মাতা। গতকাল ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ‘ভাটিবাংলার অধিরাজ’ নামে এ প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয় বনানীর ভিউ ফাইন্ডার কার্যালয়ে। ভাটিবাংলার লোকসংগীতের এক বিস্মৃতপ্রায় সাধক বাউল কবি রশিদ উদ্দিন। ১৮৮৯ সালের ২১ জানুয়ারি নেত্রকোণার বাহিরচাপড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া এই সাধক ছিলেন ভাটিবাংলার বহু কিংবদন্তি বাউলের ওস্তাদ। শাহ আব্দুল করিম, উকীল মুন্সি, জালাল খাঁ-এমন অনেক বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন তার প্রত্যক্ষ শিষ্য। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বাহিরচাপড়া গ্রামে বাউল রশিদ উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে লেখা পুরনো পাণ্ডুলিপি দেখার সুযোগ হয় নির্মাতা শাকুর মজিদের। সে সময় উত্তরাধিকারীরা জানান, রশিদ উদ্দিনের বহু গান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি নিয়ে গিয়ে নাম বদলে নিজেদের নামে প্রচার করেছেন। ফলে বহু জনপ্রিয় লোকগানের প্রকৃত রচয়িতা আজও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে। এই ঐতিহাসিক অবিচারের অনুসন্ধানেই নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র ‘ভাটিবাংলার অধিরাজ: বাউল কবি রশিদ উদ্দিনের অধিকারহীনতার সন্ধানে।’ প্রামাণ্যচিত্রটিতে রশিদ উদ্দিনের জীবন, সাধনা, শিষ্য-পরম্পরা, হারিয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি, গান বিকৃতি, ভ্রান্ত ক্রেডিট এবং উত্তরাধিকারীদের সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি বাউল কবি রশিদ উদ্দিনের ১৩৭তম জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে প্রামাণ্যচিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মাতা শাকুর মজিদ বলেন, ‘যার গানে গড়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভাবজগৎ, সেই মানুষটি আজ ইতিহাসের আড়ালে। তাকে তার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়াই এই প্রাণ্যচিত্রের মূল উদ্দেশ্য।’ তিনি মনে করেন, এই প্রামাণ্যচিত্র শুধু একজন সাধকের জীবনকথা নয়, এটি বাংলার লোকসংস্কৃতিতে স্রষ্টার অধিকার, স্মৃতি ও ন্যায্য স্বীকৃতির প্রশ্ন তুলে ধরে। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, গবেষকসহ সবার উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস।   এলআইএ