বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘কটকা অভয়ারণ্য’ ও ‘জামতলা সমুদ্র সৈকত’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তাণ্ডবে প্রতিনিয়ত ভাঙছে বনের তটরেখা। গত দুই বছরে সাগরের পেটে চলে গেছে বনরক্ষীদের ব্যারাক, রেস্ট হাউস ও সুপেয় পানির পুকুরসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা। পর্যটন বিকাশের পরিবর্তে এলাকাটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা।সরেজমিনে দেখা গেছে, সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে কটকায় অবস্থিত বনরক্ষীদের দুটি ব্যারাক, একটি রেস্ট হাউস, চলাচলের রাস্তা এবং বনের প্রচুর গাছপালা ইতিমধ্যে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। এক সময় যেখানে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকত, সেখানে এখন কেবল ভাঙনের ক্ষত।জামতলা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক কাছেম মোড়ল বলেন, জামতলা বীচে ঘুরতে বছর খানেক আগেও এসেছিলাম। এবার এসে দেখি কিছু জায়গা বালির বদলে মাটি হয়ে গেছে। বিশেষ করে সূর্যাস্ত দেখার জায়গাটা বালি সরে গিয়ে মাটি বের হয়ে গেছে। কাদামাটিতে হাঁটাচলা করা বেশ কষ্টকর।আরেক দর্শনার্থী মুন্সী মোহাম্মদ ওমর বলেন, ঢেউয়ের তাণ্ডবে ভাঙনে কটকা পর্যটন কেন্দ্রটি প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কটকা পর্যটন কেন্দ্রে আগে প্রচুর পর্যটক আসতো। এখন চলাচলের রাস্তাটি বেহাল দশা আর জামতলা সি বিচের বালি সরে যাওয়ায় পর্যটক আসে না বললেই চলে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিলে যেটুকু আছে তাও সাগরে বিলীন হয়ে যাবে।শরণখোলা ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল আহাম্মেদ বলেন, কটকার একটি অংশে গাছপালা, রাস্তাঘাট ও বনরক্ষীদের অফিস ভেঙে সাগরের বুকে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে জামতলা সমুদ্র সৈকতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের বালু সরে গিয়ে কাদা কাদা হয়ে গেছে। এখন সূর্য সূর্যাস্ত দেখার জন্য পর্যটকদের কাদা মাটির উপর দাঁড়াতে হয়। ফলে আকর্ষণ হারাচ্ছে জামতলা সমুদ্র সৈকত। কটকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পর্যটকরা। সংশ্লিষ্টরা উদাসীনতায় রয়েছে। ফলে এখানের পর্যটন সংশ্লিষ্টদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।আরও পড়ুন: বন বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মতিউর রহমান বলেন, সাগরের তীব্র ঢেউয়ে ভাঙছে কটকা বনাঞ্চল। প্রতিনিয়ত ভাঙনের কারণে গত দুই বছরে কটকায় বনরক্ষীদের দুটি ব্যারাক, একটি রেস্ট হাউস, রাস্তাঘাট, পুকুর এবং গাছপালা সাগরে বিলিন হয়েছে। বেশ কয়েকবার ব্যারাক স্থানান্তর করতে হয়েছে। ভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক ফেলা না হলে বর্তমান অফিস ও রেস্ট হাউস সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কটকায় বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও রাস্তাঘাট সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।