নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানিকালে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল শুনানির বিরতি চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুনানিতে আফরোজার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবীদের ব্যাখ্যা নেন ইসি। দুপুরে ব্যাখ্যা গ্রহণের শেষ দিকে শুনানি আধা ঘণ্টার জন্য বিরতি দেয় কমিশন। তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে পুরো কমিশন আসন ত্যাগ করার পরপরই আপিলের পক্ষে ও বিপক্ষের আইনজীবীরা বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। এ জটলার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তারও বৈধ মনোনয়নপত্র বাতিলের আপিল হয়েছে। এজন্য শুনানিতে অংশ নিতে তিনি ইসিতে আসেন। জটলায় তিনি মনোনয়ন বাতিল করতে চাওয়া পক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় অন্য এক আপিলের শুনানির জন্য ইসি মিলনায়তনে উপস্থিত কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি প্রার্থী আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি আউয়াল মিন্টুর ক্ষোভ প্রকাশ নিয়ে আপত্তি তোলেন। সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। তখন আউয়াল মিন্টুকে আইনজীবীরা সরিয়ে নিলে তার ছেলে তাবিথ আউয়াল কথা বলে হাসনাতকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিরতির পর শুনানি শুরু হলে হাসনাত কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রার্থী আউয়াল মিন্টু অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। ব্লাডি সিটিজেন বলেছেন এবং বল প্রয়োগেরও চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি শুনেছি। এটাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলি। আশা করছি, কেউ আর এ ধরনের ঘটনা ঘটাবেন না।’ তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য নির্বাচনি তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। এমওএস/একিউএফ/জেআইএম