সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো কার্যকরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা এই খাতের মোট বরাদ্দকে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চলতি জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে এই নতুন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আর্থিক ভিত্তি প্রস্তুত করে রাখল, যাতে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দ্রুত এটি বাস্তবায়ন করতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মূল বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় (এডিপি) ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকা করা হয়েছে। উন্নয়ন খাতের এই ৩০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করে মূলত সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর ব্যয় মেটানো হবে।সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত পে-কমিশন তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নাটোরের গুরুদাসপুরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানান, ‘কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় জানা গেলবর্তমানে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন পান। তবে সামরিক বাহিনী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ প্রায় ২৪ লাখ মানুষ এই নতুন পে-স্কেলের সরাসরি সুবিধাভোগী হতে যাচ্ছেন।অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে অন্তত মূল বেতন অথবা ভাতার একটি অংশ কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এমনকি প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি হলেও তা বকেয়া হিসেবে (এরিয়ার) দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে সংশোধিত বাজেটে।