কর্পোরেট যাকাত হিসাব ও শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজনেস যাকাত সেমিনার ২০২৬’। আইএফএ কনসালটেন্সি (IFAC) কর্তৃক আয়োজিত এই বিশেষ সেমিনারটিতে দেশের বিভিন্ন কর্পোরেট টপ এক্সিকিউটিভ, সিএফও, অ্যাকাউন্টিং পেশাজীবী এবং ব্যবসায়িক উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত অ্যারিস্টো টাওয়ারে অনুষ্ঠিত সেমিনারটিতে কর্পোরেট ব্যালেন্স শিট থেকে যাকাতযোগ্য সম্পদ (Zakat Base) নির্ধারণের বাস্তবধর্মী পদ্ধতি নিয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক আলোচনা উপস্থাপন করা হয়। আন্তর্জাতিক শরীয়াহ মানদণ্ড প্রণয়নকারী সংস্থা (AAOIFI) কর্তৃক প্রণীত যাকাত স্ট্যান্ডার্ড ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শরীয়াহ মানদণ্ড অনুসারে যাকাত হিসাবের জটিল বিষয়গুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করাই ছিল এই সেমিনারের মূল লক্ষ্য।সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষভাবে যেসব বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ধারণা লাভ করেন এর মধ্যে রয়েছে: মজুত পণ্যের (Inventory) মূল্যায়ন, পাওনা (Receivables) ব্যবস্থাপনা, সন্দেহজনক পাওনার যাকাত ট্রিটমেন্ট এবং যাকাতের সম্পদ থেকে বাদযোগ্য বিজনেস ঋণ (Allowable Deductions) এর প্রয়োগ সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা লাভ করেন। এর মাধ্যমে কর্পোরেট আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) ও যাকাত হিসাবের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। আরও পড়ুন: ‘শরিয়াহ অডিটরের ঘাটতি পূরণে উদ্যোগ নেয়া জরুরি’ বিশিষ্ট শরিয়াহ স্কলার ও ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল সেশনগুলোতে কর্পোরেট যাকাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং জবাবদিহিতার গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেন। সেমিনারের শুরুতে IFAC-এর পরিচালক মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম স্বাগত বক্তব্যে কর্পোরেট যাকাত কমপ্লায়েন্সকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অ্যারিস্টোফার্মা লিমিটেডের পরিচালক জনাব আহমেদ ইমতিয়াজ হাসান কর্পোরেট যাকাত ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক দায়িত্বের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শরীয়াহসম্মত ও স্বচ্ছ যাকাত ব্যবস্থাপনা কর্পোরেট গভর্নেন্সকে শক্তিশালী করে এবং টেকসই সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখে। এরপর IFAC-এর প্রধান শরিয়াহ কনসালটেন্ট মুফতি জুবায়ের আব্দুল্লাহ যাকাতযোগ্য সম্পদের বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি স্থায়ী সম্পদ (Fixed Assets) ও চলতি সম্পদের (Current Assets) যাকাত হিসাবের মৌলিক পার্থক্য শরীয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন।ৎ IFAC-এর পরিচালক ড. মুফতি ইউসুফ সুলতান যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বিয়োগযোগ্য দায় (Liability) বিশ্লেষণ ও কর্পোরেট যাকাত গভর্নেন্সের ওপর আলোকপাত করেন। এছাড়াও কর্পোরেট যাকাতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব, দারিদ্র্য বিমোচনে এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন পরিচালক মো. মেজবাহ উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।সেমিনারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অ্যারিস্টোফার্মা লিমিটেড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যারিস্টো টাওয়ারের হলরুমটি ভেন্যু পার্টনার হিসেবে প্রদান করে ইভেন্টটির সফল আয়োজনে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করেছে। কো-স্পন্সর হিসেবে ছিলেন ফাস্ট গ্লোবাল, ওয়ালিদাইন এবং সোশ্যাল গীক। পাশাপাশি খাস ফুড, তাক এবং হারামাইন স্টোর গিফট স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ উপহার প্রদান করে। এছাড়াও নলেজ পার্টনার হিসেবে আদল অ্যাডভাইজরি মালয়েশিয়ার অবদান উল্লেখযোগ্য। আয়োজক প্রতিষ্ঠান IFAC সেমিনারের সাফল্যে অবদান রাখা সকল বক্তা, অংশগ্রহণকারী, স্পন্সর ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।