প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে রোববার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল আগামীকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হতে পারে। এদিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফল প্রকাশের লক্ষ্যে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উত্তরপত্র স্ক্যানিংয়ের কাজ শেষ। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম এ কাজ করেছে। ফলাফল প্রস্তুতের কাজেও ভালো অগ্রগতি হয়েছে। কাজ শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দিলে আগামীকাল (রোববার) ফল প্রকাশ করা হতে পারে। যদি কোনো কারণে তা না হয়, সেক্ষেত্রে ২০ জানুয়ারির মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে।’ প্রতি পদের বিপরীতে কতজনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, আগে সিদ্ধান্ত ছিল জেলাভিত্তিক শূন্যপদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থীকে ভাইভায় ডাকা হবে। তবে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরও বেশি প্রার্থীকে ভাইভা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে হয়তো প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে পাঁচজনকে ভাইভায় ডাকা হতে পারে।’ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘খুব শিগগির ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রস্তুতে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। প্রস্তুতি শেষে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।’ গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। এ পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ফেসবুকে শেয়ারও করেন। অন্যদিকে, এ পরীক্ষা ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ চুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসের সহায়তা দিয়েছেন। ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া ২০৭ জন চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। তাদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬, রংপুরে দুজন রয়েছেন। প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে এ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রত্যাশীরা। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর যারা জালিয়াতির চেষ্টা করেছে, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে এ পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই। এএএইচ/এমএএইচ/