‘শুধু একটাই চিন্তা থাকে, কিভাবে দলকে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করা যায়

ঢাকা ক্যাপিটালসের উড়ন্ত শুরু! রংপুর অধিনায়ক লিটন দাস বল তুলে দিলেন নাহিদ রানার হাতে। আক্রমনে এসে প্রথম বলেই সাইফ হাসানের স্টাম্প উপড়ে অধিনায়ককে ফল এনে দেন সঙ্গে সঙ্গেই। প্লে অফে ওঠার লড়াইয়ে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ঢাকার ব্যাটারদের জন্য রীতিমতো আতঙ্কে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। ২৪ ডেলিভারির মধ্যে ডট দিয়েছেন ১৪টি আর ১১ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। ম্যাচসেরা নাহিদের কাছে দলকে জেতানোটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজ (শনিবার) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকাকে ১১ রানে হারিয়েছে রংপুর। ম্যাচে নিজের প্রথম স্পেলেই সাইফ হাসানকে চমকে দেন নাহিদ। পুরো বিপিএলজুড়ে ছন্দে না থাকা সাইফের বিপক্ষে প্রথম বলেই ১৪৫ কিলোমিটার গতির নিখুঁত লেন্থের ডেলিভারি করেন তিনি। শুধু গতি নয়, দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণই ছিল ওই বলের আসল অস্ত্র। সামনের পায়ে খেলতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে হালকা মুভমেন্টে ব্যাট ছুঁয়ে না গিয়ে বল আঘাত হানে অফ স্টাম্পে। সাইফ ব্যাটে লাগাতে পারলে পাওয়ারপ্লেতে বলটা সহজেই স্লিপ ফিল্ডারের হাতে চলে যেতে পারত। ওই ডেলিভারি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, ‘আসলে এমন কিছু আগে থেকে অনুভব করা বা আন্দাজ করা যায় না। আমি শুধু একটাই বিষয় মাথায় রেখেছিলাম— ভালো লাইন ও লেন্থে বল করা। সেটাই ছিল আমার পুরো ফোকাস।’ নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নিয়ে নাহিদের কথা, ‘সবার আগে আলহামদুলিল্লাহ। একজন বোলার হিসেবে মাঠে নামার সময় আমার কোনো ব্যক্তিগত লক্ষ্য থাকে না। আমার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা থাকে— কিভাবে দলকে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করা যায়। দলের জন্য কিছু করতে পারাটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’ সপ্তম ওভারে আবার ফিরে এসে আবার প্রভাব রাখেন নাহিদ। বাউন্সারে সাব্বির রহমানকে কাট শট খেলতে বাধ্য করেন, ডিপ থার্ডম্যান অঞ্চলে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ধরা পড়েন সাব্বির। প্রথম স্পেল শেষ করেন ২ ওভারে ৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে। নিজের শেষ ২ ওভারে মাত্র ৬ রান দেন তিনি। তুলে নেন ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের উইকেটও। কভার অঞ্চলের ওপর দিয়ে স্লগ করতে গিয়ে নাহিদের অতিরিক্ত গতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে মিড-অফে মুস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দেন মিঠুন। সাধারণত সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এক্সপ্রেস পেসারদের রানখরচা বেশি হয় বলেই ধরা হয়। তবে নাহিদ রানা দেখিয়েছেন, কাঁচা গতি আর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ ও বুদ্ধিদীপ্ত ভ্যারিয়েশনের মেলবন্ধন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১১ রান খরচ করাই নাহিদের সবচেয়ে কম। রান দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্পষ্ট জবাব দেন তিনি, ‘সত্যি বলতে কি, আমি বেশি রান দিলাম না কম দিলাম— এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি কিভাবে দলকে ম্যাচ জেতাতে পারছি। ধরুন, শেষ তিন ওভারে ৩০ রান দিলাম কিন্তু শেষ ওভারে দুইটা উইকেট নিলাম— তাতেই যদি দল জেতে, আমি খুশি। রান দিলেও সমস্যা নেই, যদি ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দিতে পারি।’ এসকেডি/আইএইচএস/