নেটেও সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং করেছে সাইফ!

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই এক সমস্যা। কেউ একটু সাহস দেখালে আর ভালো খেলে কিছু রান করলেই তাকে টেনে-হিঁচড়ে ওপরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলে। এই যেমন— দ্বিতীয়বার ফিরে ক্যারিয়ারটা নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামরত সাইফ হাসানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই সহ-অধিনায়ক করা। তার চেয়ে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার দলে থাকার পরও সাইফকে সহ-অধিনায়ক করার যৌক্তিকতা, যথার্থতা খুঁজে পাননি কেউ। এদিকে টি-টোয়েন্টি দলের ভাইস-ক্যাপ্টেন হওয়ার আগেই কিন্তু রানখরা শুরু হয়েছিল সাইফের। এরপর বিপিএলে এসে আরও শোচনীয় অবস্থা। যেন রান করতেই ভুলে গেছেন। ৮ ম্যাচে রান সাকুল্যে ৬০। সর্বোচ্চ মোটে ২২। এর চেয়ে খারাপ ফর্ম আর কী হতে পারে? এই রকম অফফর্ম ব্যাটার দলের সহ-অধিনায়ক। কিন্তু এত খারাপ অবস্থায় থাকার পরও কি তিনি সহ-অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলার সুযোগ পায়) একাদশে থাকবেন? কেন সাইফের এমন করুন অবস্থা? সাইফের বিপিএল টিম ঢাকা ক্যাপিটালসের হেড কোচ গোলাম মর্তুজা নিজেও যেন বুঝতে পারছেন না। তারও বোধগম্য হচ্ছে না কেন সাইফ ব্যর্থ হচ্ছেন, কী কারণে ম্যাচে গিয়ে চটজলদি কম রানে আউট হয়ে যাচ্ছেন। আজ শনিবার রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে শুরু দেখে মনে হচ্ছিল কিছু একটা করবেন; কিন্তু একটি করে বাউন্ডারি ও ছক্কায় ১২ করার পর নাহিদ রানার এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ভক্তদের হতাশায় ডোবান সাইফ। প্রেস কনফারেন্সে কথা বলতে এসে ঢাকা ক্যাপিটালস কোচ গোলাম মর্তুজা সাইফকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, প্র্যাকটিসে সাইফ দুর্দান্ত ব্যাটিং করছে। গতকাল শুক্রবারও নেটে সবার চেয়ে ভালো ব্যাটিং করেছে সাইফ। শটগুলো ১০০% পারফেক্ট হয়েছে। কিন্তু ম্যাচে গিয়ে তা হলো না। সাইফ চালিয়ে খেলতে পারেন, উইকেটের সামনে ও দু’দিকে বিগ হিট নেওয়ার যথেষ্ট সামর্থ্য আছে। এই না হওয়ার সঙ্গে কি মন্থর গতির উইকেটের কোনো সম্পর্ক আছে? ঢাকার কোচ মর্তুজার ব্যাখ্যা, ‘না। আজকে তো উইকেট বেশ ভালো ছিল। তাই তো রান তাড়া করেও আমরা ১৭০ করেছি।’ সাইফের এই অফফর্ম কাটাতে টিম ঢাকার পক্ষ থেকে কি কোনো চেষ্টা করা হয়েছে? কোচিং স্টাফরা কি তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যা চিহ্নিত করে তা শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন? মর্তুজার জবাব, ‘হ্যাঁ, আমরা জানি সাইফ হাসান আমাদের টিমের ভাইটাল প্লেয়ার। তার ভালো খেলা, রান করা আমাদের টিম পারফরম্যান্স ভালো রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এর বাইরে সে বিশ্বকাপ টিমেরও ভাইটাল প্লেয়ার। তার সার্ভিস দরকারি। তাই আমরা তাকে সর্বাত্মকভাবে পুশ করার চেষ্টা করেছি। সবাই মিলে তাকে সাহস দেওয়া হয়েছে। সাইফ যেহেতু ওভার দ্য টপ খেলতে পছন্দ করেন, তাই তাকে ওপরে ব্যাটিং করালে তার ব্যাট থেকে আক্রমণাত্মক ইনিংস তথা রান বেরিয়ে আসবে— এমনটাই ভাবা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। সাইফকে উঠিয়ে-নামিয়ে খেলানো হয়েছে। এবারের বিপিএলে সাইফ ওপেন করেছেন ৩ খেলায়। তিনটিতে তার ব্যাটিং পজিশন ছিল ওয়ান ডাউন। আর একটি করে ম্যাচে যথাক্রমে ৪ ও ৫ নম্বরে ব্যাট করানো হয়েছে। কেন বারবার পজিশন বদল? তার ব্যাখ্যায় কোচ মর্তুজা বলেন, ‘সেটা সাইফের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই করা হয়েছে। আমরা যখন দেখলাম নতুন বলে একটু সমস্যা হচ্ছে, তখন একটু নিচে নামিয়ে দেখতে চেয়েছিলাম—পরের দিকে বল পুরোনো হওয়ার পর নেমে রান করতে পারে কিনা। নিচে রান পেলে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও আস্থা ফিরে পাবে—মূলত সেই চিন্তায় তার পজিশন অদলবদল করা হয়েছে।’ এআরবি/আইএইচএস/