অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং অবকাঠামোগত নির্মাণে যথাযথ মানদণ্ড অনুসরণ না করায় ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তুতির ঘাটতি ডেকে আনতে পারে বড় বিপর্যয়।বড় ভূমিকম্পের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বাংলাদেশ। এমন আভাস মিলেছে, গত বছরে নভেম্বরে হয়ে যাওয়া এই শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পে। বাংলাদেশ ও দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মোট ৫টি ভূমিকম্পের উৎস রয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব উৎস থেকে রিখটার স্কেলে ৭.৫ থেকে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্প উৎপন্ন হতে পারে। চট্টগ্রাম শহরের আর্থকোয়েক ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট করে দেখা গেছে, যদি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ভূমিকম্প হয়, তবে চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডের ২ লাখ ৬২ হাজার ভবনের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ভবনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ভূমিকম্প মোকাবিলায় এখনও কি কোনো পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে?ভূমিকম্প প্রকৌশল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল আলম বলেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম দু একদিন হইচই হয়েছে। এরপর কেনো যেনো পুরোপুরি নিশ্চুপ হয়ে গেছে। সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।দায়সারাভাবে মাটি পরীক্ষা বা মাটি পরীক্ষা না করেই একের পর এক নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবন। ভূমিকম্পে বড় ক্ষয়ক্ষতির প্রধান কারণ হতে পারে দুর্বল ফাউন্ডেশন, ঘটতে পারে তরলীকরণের মতো ঘটনা।আরও পড়ুন: অপরিকল্পিত নগরায়ন: ভূমিকম্প ঝুঁকিতে নেত্রকোনা পৌরবাসীচুয়েট পুরকৌশল বিভাগের ভূ-কারিগরি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. আফতাবুর রহমান বলেন, এই ইনভেস্টিগেশনগুলো আমরা খুব লাইটলি কমন কনসেপ্টের ওপর বেইস করে করে ফেলি। কিন্তু আসলেই এই জায়গাতে আমাদের কিন্তু স্ট্রংলি লুক আফটার করতে হবে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে একটি পরিকল্পিত শহরে ন্যূনতম ২৫ শতাংশ রাস্তা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরু হয়ে পড়েছে অলিগলি। ফলে বড় কোনো দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা করাও হয়ে পড়বে দুরূহ।চুয়েট স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুল হাসান বলেন, দুর্ভাগ্য হিসেবে আমাদের বর্তমানে দেশে জন পরিসর, খেলার মাঠ, প্রশস্ত ফুটপাত এগুলোর মাত্রা দিনকে দিন হ্রাস পাচ্ছে এবং দুর্যোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি দফতরগুলোকে এ বিষয়গুলো চূড়ান্তভাবে তাদের এখন কাজ করার সময় এসেছে।এই অঞ্চলের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর এই অঞ্চলে ৭ বা তার অধিক মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়ান টেকটনিক প্লেটের কারণে ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে অনুভূত হয়েছিল ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূকম্পন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা, বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নগর পর্যায়ে সমন্বিত ভূমিকম্প প্রস্তুতি এখনই নিশ্চিত না করা হলে বড় ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।