রাঙ্গামাটি পৌরসভায় বকেয়া আয়কর যেন আকাশ ছুঁয়েছে। ১৫ কোটির এই বিশাল পরিমাণ বকেয়ার জন্য পৌরসভা ও নগরবাসী এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। কর আরোপে পৌরসভার খামখেয়ালিপনা ও কর্মকর্তাদের অসৎ উপায়কে দুষছেন নগরবাসী।অন্যদিকে, সব দায় পৌর নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে বকেয়া কর আদায়ে মামলার কথা ভাবছে পৌর কর্তৃপক্ষ।জানা যায়, বর্তমানে রাঙ্গামাটি পৌরসভার বকেয়া আয়করের পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে শুধু মাত্র ৭নং ওয়ার্ডেই রয়েছে ৫ কোটি টাকা। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়ার পরিমাণ দুই কোটি টাকারও বেশি। এত বিশাল পরিমাণ কর বকেয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে সঠিক জরিপ না করা, অসৎ উদ্দেশ্যে অধিক করারোপকে দুষছেন পৌরবাসী।সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭২ সালে ৬৫ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে হ্রদ পাহাড়ে ঘেরা, ছবির মতো সুন্দর রাঙ্গামাটি পৌরসভা যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৮ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় রূপান্তর হয়। এই দীর্ঘ ৫৪ বছরেও নাগরিক সেবায় খুব বেশি দূর আগ্রসর হতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তাই নয় বকেয়া কর আদায়েও হয়েছে চরমভাবে ব্যর্থ।আরও পড়ুন: ৩৩ লাখ টাকা আয়কর বকেয়া ডেপুটি স্পিকারের ভাই বাতেনেরব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন এই তালিকায়। যেখানে ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ বকেয়া করের পরিমাণ প্রায় ৩২ ও সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা। বাদ যায়নি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও। যেখানে বকেয়ার পরিমাণ ৫৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।এ বিষয়ে ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, ‘আমাদের দুই হোল্ডিং নম্বরের বিপরীতে কর দেয়া হয় যথাক্রমে ১০ হাজার ও ৭৯ হাজার টাকা। এই বিল দেখে আমার স্ট্রোক করার মতো অবস্থা হয়েছিল, পরে পৌরসভায় যাওয়ার পরে বিল হয় ২ হাজার ও ২০ হাজার টাকা। কারণ জানতে চাইলে আমাকে জানানো হয় ভুলে এমনটা হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন আরও অনেকেই আছেন; যাদের অবস্থা আমার মতোই। তারা তো বলে দিয়েছেন আয়কর দেবেন না।’এ বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘কিছু অসাধু কর্মচারী প্রথমে ইচ্ছামত কর ধার্য করেন। পরে লেনদেনের মাধ্যমে কর কমিয়ে দেন। এটা একটা ব্যবসা।আরও পড়ুন: আয়কর বকেয়ার অভিযোগে ২৫ শিল্পীর ব্যাংক হিসাব জব্দদুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ‘করারোপে স্বচ্ছতা ও সতর্কতাই পারবে এই সমস্যার সমাধান করতে। আমাদের কাছে অনেকেই অভিযোগ করেন একই ধরনের স্থাপনা থাকার পরও কর ধার্য হয় ভিন্ন ভিন্ন। এগুলো কোনোভাবেই কাম্য নয়। করদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পৌরসভাকেই এই সমস্যার সমাধার করতে হবে।’ রাঙ্গামাটি পৌরসভার সচিব মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘কর জরিপের সময় আমরা খুব সতর্ক থাকি। নাগরিক যে সব অভিযোগ করেছেন এগুলো সত্য নয়। কর্মচারীরা অসাধু উপায় অবলম্বন করেন না। এর জন্য পৌরবাসীই দায়ী। সম্মানিত করদাতারা না জেনে হোক বা অবহেলার কারণে রিভিউ দিতে নির্ধারিত সময় আমাদের কাছে আসেন না। পরে বিল হাতে পেলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।’রাঙ্গামাটি পৌরসভার প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন বলেন, ‘ট্যাক্সের টাকা দিয়েই পৌরসভার উন্নয়ন কাজ ও বেতন দেয়া হয়ে থাকে। আমাদের পৌরসভায় অনেক কর বকেয়া রয়েছে। এতে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ করা যাচ্ছে না। আমরা পৌরবাসীকে কর দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’আরও পড়ুন: দুই মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৬৫৭৭ কোটি টাকাতিনি আরও বলেন, ‘পাশাপাশি বিশেষ মেলাও করা হয়েছে। নাগরিকরাও কর দিচ্ছেন তবে সেটার পরিমাণ কম। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে প্রয়োজনে সার্টিফিকেট মামলা করা হবে।’সবশেষ জরিপ অনুযায়ী, রাঙ্গামাটি পৌরসভায় ১৯ হাজার ৫৮৬টি হোল্ডিং নম্বর রয়েছে।