সাতক্ষীরা সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের অভিযানে হরিণ শিকারের জন্য গভীর জঙ্গলে ফেলে রাখা ২৪৬টি অবৈধ ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে।বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনরক্ষীরা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর জঙ্গলে পেতে রাখা দড়ির তৈরি ফাঁদগুলো জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে শিকারিরা আগেই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে বনবিভাগের পক্ষ থেকে।জব্দ করা ফাঁদের মধ্যে সুন্দরবনের কলাগাছিয়ার টহল ফাঁড়ির ফুলখালী খাল এলাকা থেকে ২০০টি, চুনকুড়ি বন টহল ফাঁড়ির চালতেবাড়ি খাল এলাকা থেকে ১৭টি এবং মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ভুতোশিং ও কলুখালী এলাকা থেকে ২৯টি ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট জব্দকৃত ফাঁদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৬টি।পশ্চিমবঙ্গ বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসসি এফ) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘উদ্ধার করা ফাঁদগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হয়েছে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হরিণ রক্ষায় নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ শিকার বন্ধে বন বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় কুলের বাম্পার ফলন, ১৬০ কোটি টাকার বেচাকেনার আশাএর আগে বন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযানে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি মাহমুদা নদীর বাওনে বারামখালী খাল এলাকা থেকে নৌকার ভিতরে ফাঁদ বহনের অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। এছাড়া ৬ জানুয়ারি কেয়াখালী (নিষিদ্ধ খাল) এলাকা থেকে ৬০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ এবং একটি হরিণ ফাঁদে আটক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।গত বছরের ২৭ নভেম্বর মরগাং বনাঞ্চল এলাকা থেকে ১৬০টি, ১৩ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জ বনাঞ্চল এলাকা থেকে ৪৫টি এবং ১২ অক্টোবর কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন সাপখালী খাল এলাকা থেকে ৬০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করে বন বিভাগ।উল্লেখ্য, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে হরিণ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে একটি অসাধু চক্র গোপনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।