প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় রোববার (১৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। কৌশলে ভোটের মাঠে প্রার্থীরা - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি রয়েছে আর ২৪ দিন। তবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই মাঠে-ঘাটে ও সামাজিক পরিসরে এখনই শুরু হয়েছে নীরব ‘ভোটযুদ্ধ’। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তবে নির্বাচনি মাঠের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরাসরি ভোট না চাইলেও কিংবা পোস্টার-ফেস্টুন না লাগালেও সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আড়ালে কৌশলে গণসংযোগ চালিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি ভোটারদের মনজয় করতে নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিও ফোটাচ্ছেন তারা। অনেকেই পাড়া-মহল্লার দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। এখনো ঢিলেঢালা আইনশৃঙ্খলা - দৈনিক মানবজমিনে খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর ২৫ দিন বাকি। এরইমধ্যে ক্ষণগণনা শুরু জাতীয় নির্বাচনের। এই সময়ে এসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো উদ্বেগ কাটছে না। বিশেষ করে তফসিলের পর রাজনৈতিক নেতা খুনের মতো বড় ঘটনা ঘটেই চলেছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর হুঁশিয়ারি থাকলেও বাহিনীগুলো অনেকটা ঢিলেঢালা। প্রকাশ্যে খুনোখুনির সঙ্গে জড়িতদের দমন করতে পারছে না পুলিশসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। ফলে ভোটের আগে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক দলগুলোও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। একের পর এক খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝেও ভীতি কাজ করছে।দলগুলোর কাঠগড়ায় ইসি - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলো। দলগুলোর এই অভিযোগের কাঠগড়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দল ইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। কোনো কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব, নিরাপত্তা ব্যর্থতা, পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের বিন্যাস ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে এরই মধ্যে ইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দল বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়েও অভিযোগ করেছে।জোট নিয়ে সন্তুষ্টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি - দৈনিক সমকালের প্রথান সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও দলের ভেতরে বিদ্রোহী প্রার্থীরা অস্বস্তিতে ফেলেছে বিএনপিকে। এরই মধ্যে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরও ৫০টির মতো আসনে এখনও দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে আছেন। বিভিন্ন আসনে দল-মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে অনেকের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। ফলে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। সীমান্তে অবৈধ পারাপার ও অস্ত্র চোরাচালান নিয়ে ভয় - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে অবৈধ পারাপার, জাল টাকার কারবার ও অস্ত্র চোরাচালান বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে অপরাধ ঘটিয়ে সীমান্ত হয়ে পালানোর ঘটনা নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খ পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সম্প্রতি সরকারের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সভায় সীমান্ত নিয়ে এমন উদ্বেগের কথা এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্তবর্তী জেলায় বিশেষভাবে নজরদারির জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকেও (বিজিবি) আরও সতর্ক হতে বলা হয়েছে। নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমেনি যুক্তরাষ্ট্রের - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত পাল্টা শুল্ক কমাতে দরকষাকষিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে গম, ভুট্টা, সয়াবিন, তুলাসহ বেশকিছু পণ্য আমদানি হয়েছে। এলএনজি, উড়োজাহাজ, যন্ত্রাংশসহ আরো নানা পণ্য আমদানির বিষয়ে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। যদিও প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিদায়ী বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়েনি। উল্টো বছরটিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বেড়েছে।