যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গাজা যুদ্ধ বিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ড গঠন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এরইমধ্যে এই বোর্ডের কয়েকজন সদস্যদের নামও ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস। তবে ইসরাইল বলছে, এই বোর্ড গঠন করার আগে তেল আবিবের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকরে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বোর্ড অব পিস গঠন করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গাজার টেকনোক্র্যাট প্রশাসন তদারকির জন্য আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্যদের নাম ঘোষণা করে হোয়াইট হাউস। বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এই বোর্ডের প্রধান হিসেবে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আরও পড়ুন: গাজা ‘শান্তি বোর্ড’ / যোগদানে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ পেলেন তুরস্কের এরদোয়ান এবং মিশরের সিসি এই তালিকায় নাম লেখাতে আহ্বান জানিয়েছেন মিশর ও তুরস্কের নেতাদের। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে শনিবার আমন্ত্রণ জানানো হয়। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানান, প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বোর্ডের দায়িত্বগুলো এখনও বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও সদস্যের নাম ঘোষণা করা হবে। তবে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন ইসরাইলের নীতির লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইসরাইল। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে নীতির লঙ্ঘন হচ্ছে।বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’র মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলবেন। আরও পড়ুন: আলি শাথের নেতৃত্বে গাজার ‘টেকনোক্র্যাট সরকার’ গঠন, ট্রাম্পের সমর্থন বিবৃতিতে বোর্ড গঠনে কোন বিষয়টি ইসরাইল সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেটি নির্দিষ্ট করে বলা হয় নি। ইসরাইল সরকারের মুখপাত্র এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এছাড়া ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। বেন-গভিরের দাবি, হামাসকে ধ্বংস করার পাশপাপাশি ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়তে বাধ্য করা উচিত। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি সংগঠন ইসলামিক জিহাদের অভিযোগ, ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারা বলছে, বোর্ডের উদ্দেশ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের নামে দখলকারী শক্তির স্বার্থে কাজ করা। গাজাবাসীর আশঙ্কা, ন্যায়বিচার বা পুনর্গঠনের পরিবর্তে নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন বোর্ডের সদস্যরা। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা