গাজার ‘বোর্ড অব পিস’এর নেতৃত্বে টনি ব্লেয়ার

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের অবসান ও যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর নেতৃত্বে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক বোর্ড গঠন করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, বোর্ডটি গাজার সাময়িক প্রশাসন, নিরাপত্তা কাঠামো এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বোর্ডের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকবেন এবং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প থাকলেও, কার্যকর নেতৃত্ব ও কৌশলগত দিকনির্দেশনায় টনি ব্লেয়ারকে কেন্দ্রীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্লেয়ার অতীতে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ফিলিস্তিনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কাজ করেছেন। ‘বোর্ড অব পিস’-এর দুটি প্রধান কাঠামো রয়েছে। একটি হলো ‘ফাউন্ডিং এক্সিকিউটিভ বোর্ড’, যেখানে ব্লেয়ারসহ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, বিশ্বব্যাংকের প্রধান অজয় বাঙ্গা এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই বোর্ড কূটনীতি ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দেবে। অন্যদিকে, ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবে এবং ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি পৃথক ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদ কমিটিকে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন আলি শা’আত। গাজার মাঠপর্যায়ে বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যার নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স। এই শান্তি পরিকল্পনার আওতায় গাজার পুনর্গঠন, পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। উভয় পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং মানবিক সংকট গাজার ভবিষ্যৎকে জটিল করে তুলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজায় ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল গাজায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত ও নির্বিঘ্ন করার ওপর জোর দিয়েছে। এমআরএম/এমএস