রহমত, মাগফিরাত ও বরকতের মাস মাহে রমজান অতি সন্নিকটে। আর কিছুদিন পরেই এই মহিমান্বিত মাস আমাদের মাঝে আগমন করবে। এটি এমন একটি মাস যার বিধান মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।রোজার মত করে আল্লাহ তাআলা অন্য কোন ইবাদাতকে এত বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করেনি, রোজা আমাদের জন্য কল্যাণকর। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاَنۡ تَصُوۡمُوۡا خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ অর্থ: আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্যে অধিকতর কল্যাণপ্রসূ যদি তোমরা জানতে। (সুরা বাকারা: ১৮৪) যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানকে বন্দী করে রাখা হয়। (বুখারি: ৩২৭৭) রমজান এমন একটি মাস যে মাসে আমরা নিজেদের নফসের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করি। সাধারণত সারাবছর নফস আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে আর মাহে রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে আমরা নফসকে নিয়ন্ত্রণ করি,নফসের উপরে নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে রোজা রাখার কোন বিকল্প নেই। আর রোজার উদ্দেশ্যেই হল তাকওয়া অবলম্বন করা। আরও পড়ুন: মসজিদুল হারামে তারাবি পড়াবেন ৭ ইমাম কারণ মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ অর্থ: মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়। (সুরা বাকারা : ১৮৩) আগত মাসে আমাদেরকে মিথ্যা প্রতারণা অথবা যেকোনো গুনাহ হোক,সকল প্রকার মন্দ কাজ আমাদেরকে বর্জন করতে হবে। কারণ রাসুল (সা.) বলেন,যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং সে অনুযায়ী মন্দ আমল বর্জন করেনি,তার পানহার পরিহার করার (অর্থাৎ রোজা রাখার) আল্লাহ তাআলার কোন প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি: ১৯০৩) মাহে রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে রোজাদারদের ইফতার করানো, কারণ হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি রোজাদারকে তৃপ্তি সহকারে ইফতার করাবে,আল্লাহ তাআলা তাকে আমার হাউজে কাউসার থেকে পানি পান করাবেন,যার ফলে জান্নাতে যাওয়ার আগে আর সে পিপাসার্ত হবে না। (মেশকাত, হাদিস : ১৯৬৫) আপনারা চাইলে এতটুকু কাজের মাধ্যমে মহা সওয়াবের অংশীদার হতে পারেন, তাই আপনার আশপাশের লোকদেরকে ইফতার পাঠাতে পারেন অথবা একজন রোজাদার কে ডেকে ইফতার করাতে পারেন। বিশেষ করে শহর গুলোতে রাস্তাঘাটে যানজটের কারনে মানুষ ভিড়ের মধ্যে আটকা পড়ে থাকে। চাইলে আপনি একটু খেজুর আর পানি কিনে দিয়ে বিপুল পরিমাণ সওয়াবের অংশীদার হতে পারেন।লেখক, শিক্ষার্থী, জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদরাসা ঢাকা