মৌলভীবাজারের চা বাগানে গাছকে দীর্ঘস্থায়ী সতেজ ও সচল রাখার জন্য প্রুনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, যেন সঠিক পদ্ধতিতে প্রুনিং হয়, এজন্য সব ধরনের পরামর্শ শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে।সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মেই চা-গাছে পাতা গজানোর সক্ষমতা কমে আসে। নতুন বছরে চায়ের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে তাই মৌলভীবাজারের বাগানগুলোতে শুরু হয়েছে প্রুনিং কার্যক্রম। শ্রমিকরা জানান, মার্চে শুরু হয়ে টানা আট থেকে নয় মাস চা উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু থাকলেও, ডিসেম্বর মাসে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর জানুয়ারি মাসজুড়ে বাগানগুলোতে গাছের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে প্রুনিং করা হয়। গাছের বয়স, মাটির উর্বরতা এবং অন্যান্য দিক বিবেচনায় কয়েক ধাপে প্রুনিং করা হয়। কালার, লাইট, লো ও ক্লিন প্রুনিং সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। তবে ব্রিডার প্রুনিংয়ে গাছের একটি ডাল রেখে পুরো গাছ ছাঁটানোর ফলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় বলে জানান শ্রমিকরা। তারা বলেন, এভাবে করলে চারা গাছ সুন্দর থাকে, পাতি ভালো হয়। ভালা পাতি থাকলে রুজিও বাড়ে, চারা গাছও সুন্দর থাকে। পরে যখন চা মৌসুম শুরু হবে, তখন এই পাতি তুলে ফ্যাক্টরিতে পাঠানো হবে। যদি বাগানে ১০০ চা গাছ থেকে পাতা তোলা হয়, তবে প্রায় ৮০-৯০ কেজি পাতা পাওয়া যায়। আরও পড়ুন: লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না চা উৎপাদনের, তবে দামে খুশি বাগান মালিকরা এদিকে, শ্রমিকদের টানা আন্দোলন ও সংগ্রামের কারণে চলতি বছর গাছের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক প্রুনিং কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান সিলেট বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও চা বিশেষজ্ঞ জিএম শিবলী। তিনি বলেন, ৫০ শতাংশ প্রুনিং করা হয়। প্রুনিংয়ের মাধ্যমে চা গাছের শুট ও পাতা তৈরি হয়। মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টি শুরু হলে নতুন শুট আসবে, এরপর আবার পাতা তোলা শুরু হবে। সঠিকভাবে প্রুনিং শেষ করতে শ্রমিকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলের চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, প্রুনিং চলাকালীন গাছের শিকড়ের খাদ্য থাকার কারণে গাছ প্রুনিংয়ের ধকল সহজে মোকাবিলা করতে পারে। এতে গাছের টিকে থাকার হার সর্বোচ্চ এবং মর্টালিটি কম হবে। চায়ের উৎপাদন বাড়াতে মৌলভীবাজার জেলার ৯৩টি চা বাগানেই এই প্রুনিং কার্যক্রম চলবে।