ইরান প্রশ্নে দ্বিধায় ট্রাম্প!

ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে তেহরান-ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুরুতে হুমকি-ধমকি দিলেও এখন কিছুটা নমনীয় হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্ন উঠছে ইরান ইস্যু থেকে ট্রাম্প কি আসলেই দৃষ্টি সরিয়ে নিলেন, নাকি ভেতরে ভেতরে অন্য কোনো ছক কষছেন।সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে তার লক্ষ্য হলো জয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা আদর্শিক ইরানি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বিজয়ের কোনো সহজ পথ নেই। ২০২০ সালে শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড ও গত জুনে পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পাল্টা জবাবের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, ইরানের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর যেকোনো হামলার জবাবে দেশটি অর্থবহ পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে নেতৃত্ব নির্মূল অভিযান চালানো হলেও শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এমন নিশ্চয়তা নেই। এতে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। আরও পড়ুন: ‘ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে’, খামেনিকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের এ প্রসঙ্গে স্টিমসন সেন্টার থিঙ্কট্যাঙ্কের ফেলো বারবারা স্লাভিন বলেন, ইরানে দ্রুত বিজয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। স্বল্প শক্তি দিয়ে ভেনেজুয়েলার মতো ইরানে সামরিক অভিযানের পুনরাবৃত্তি সম্ভব নয়, এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক শক্তি লাগবে। ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুসহ নানা সংকটের মধ্যে ট্রাম্প কি মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় সংকট চান কি না এটা নিয়েও প্রশ্ন অনেকের? তবে স্লাভিনের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতায় যেতে পারে। আর ট্রাম্প সেটিকে বড় বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। আরও পড়ুন: ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে কেন বাধা দিলো ইসরাইল গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন ট্রাম্প। পরবর্তী দুই সপ্তাহে তিনি এই হুমকি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করেন এবং বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলেরও আহ্বান জানান। তবে ইরান সরকার আন্দোলনকারীদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর সুর কিছুটা নরম করেন ট্রাম্প। কয়েকটি গণমাধ্যম বলছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। তবে সংকট এখানেই শেষ নয় বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। ইরান ফের বিক্ষোভের আগুনে জ্বলে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পও তার সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন বলেও শঙ্কা তাদের।