গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রকেও এর খেসারত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী অ্যানি জেনেভার্ড। রোববার (৮ জানুয়ারি) ফরাসি গণমাধ্যম ইউরোপ ১ ও সি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অ্যানি জেনেভার্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি এ ধরনের শুল্ক আরোপের পথে এগিয়ে যান, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও ক্ষতির মুখে পড়বে। শুল্ক বৃদ্ধির এই উত্তেজনায় তারও অনেক কিছু হারানোর আছে। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তার দেশের কৃষক ও শিল্পপতিরাও। তিনি আরও বলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা ‘গ্রহণযোগ্য নয়।’ এদিকে, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন এ শুল্ক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি এ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। সেখানে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি দেওয়া হবে, ততক্ষণ ইউরোপের মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ ক্রমবর্ধমান হারে অব্যাহত রাখা হবে। ওই পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা সব ধরনের পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। এ শুল্ক ১ জুন থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে সম্প্রতি বলপ্রয়োগের আভাসও দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে এ সপ্তাহেই গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সৈন্য পাঠিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। এরপরই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিপরীত অবস্থানে থাকবে যেসব দেশ তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। এবার সেটা বাস্তবায়নও করলেন। ইউরোপের মিত্রদের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে লেখেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড ‘অজানা উদ্দেশ্যে’ গ্রিনল্যান্ডে গিয়েছে এবং তারা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা’ খেলছে। সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটাতে এ মুহূর্তে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়াই উত্তম পন্থা বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডেনমার্কের অধীনে থাকা আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাওয়া ট্রাম্প আরও বলেন, কয়েক শতাব্দি পর ডেনমার্কের সামনে সময় এসেছে গ্রিনল্যান্ড ফেরত দেওয়ার। বিশ্বশান্তি ঝুঁকির মুখে! চীন গ্রিনল্যান্ড চায়, আর ডেনমার্ক সেটি ঠেকানোর জন্য কিছুই করতে পারবে না। শুল্প আরোপের ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্পের দখলদারত্বমূলক নীতির বিরোধিতা করে রাস্তায় নামেন গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিক্ষোভকারীরা। এদিন এক বিবৃতিতে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে বর্ণনা করেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট- এটি ডেনমার্কের অংশ এবং এর ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডার ও ডেনমার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটো মিত্রদের সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ ‘সম্পূর্ণ ভুল’। সূত্র: এএফপি এসএএইচ