আর শোকগাঁথা নয়, গণতান্ত্রিক মানুষের বিজয়গাঁথা রচনা করতে হবে: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আর শোকসভা বা শোকগাঁথা নয়, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে গণতান্ত্রিক মানুষের বিজয়গাঁথা রচনা করতে হবে। সেজন্য আগামী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদে ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে মিলনায়তন।জুলাই আগস্টে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিতাড়িত হয় ফ্যাসিবাদী সরকার। ৩৬ দিনের এই প্রাণঘাতী লড়াইয়ে সরকারি হিসেবে শহীদ হন প্রায় সাড়ে ৮০০ জন আর আহত হন প্রায় ১৪ হাজার মানুষ। যদিও বেসরকারি নানা হিসেবে এই সংখ্যা আরও বেশি।যাদের আপোসহীন লড়াই আর রক্তস্রোতে ভেসে গেছে স্বৈরাচার, সেই শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে বিএনপি আয়োজন করে এই মতবিনিময় সভার। এতে যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের কথা শুনেন।এতোদিন ভার্চুয়ালি জুলাই অভ্যুত্থানে ভুক্তভোগী পরিবারের কথা শুনলেও, সশরীরের আজ তাদের ত্যাগ, সংগ্রাম আর স্বজন হারানোর যন্ত্রণার সাক্ষী হলেন তারেক রহমান। যাদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ, তাদের নিয়ে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সমালোচনা উঠে আসে সভায়।আরও পড়ুন: জুলাই যোদ্ধাদের দেখভালের প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমানকৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের আয়োজনে দর্শকসারিতে ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে কিছু সময় পরপরই তারেক রহমান কাছে ডেকে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহতদের কয়েকজনের সঙ্গে একান্তে কথাও বলেন।মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ এর আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়, এটি  ছিল অধিকার হারা মানুষের গণ আন্দোলন।তারেক রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এটিকে এক বাক্যে স্রেফ আমরা একটি গণহত্যা বলতে পারি।তিনি বলেন, আপনাদের সাহসী ভূমিকার কারণেই ফ্যাসিবাদী চক্র শুধুমাত্র রাষ্ট্র ক্ষমতা নয় বরং এই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।সরকার গঠন করলে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।আরও পড়ুন: তারেক রহমান-সারাহ কুক বৈঠকে যেসব বিষয়ে কথা হলোতিনি জানান, সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আরেকটি বিভাগ খুলে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের দেখভালের ব্যবস্থা করা হবে।তরেক রহমান বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী দিনের সরকার গঠনে সক্ষম হবে। এই শহীদ পরিবার যারা আছেন, জুলাই যোদ্ধা যারা আছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা।তিনি বলেন, ৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। এই দেশের স্বাধীনতা অর্জনেরজন্য যোদ্ধারা ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২৪ এর যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন তারা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল ৭১ সালে। তাকেই আবার রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে। সেজন্যই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা আরেকটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করব, যাদের দায়িত্ব হবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা। কারণ তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই গণ্য।জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সেই প্রতিশ্রুতি বিএনপি পূরণ করবে বলেও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।