রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিশেষ অভিযানে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পাচার করা দুটি ইউএসএ তৈরি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিজিবির রাজশাহী সদর দফতরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান রাজশাহী বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার।তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর তিনটি বিশেষ টহল দল কাটাখালী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়।অভিযানকালে সীমান্তবর্তী ১০ নম্বর পদ্মার চর এলাকায় মাটির ভেতরে পুঁতে রাখা একটি ব্যাগ থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় মালিকবিহীন ওই দুটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাটাখালী থানায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে, এই অভিযানে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানানএদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।বিজিবি সূত্র জানায়, ৯টি উপজেলা ও একটি সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ছয়টি সংসদীয় আসনে ২৮টি প্লাটুন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, দুই প্লাটুন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ, কে-৯ ইউনিট, পদ্মা নদীতে সাতটি স্পিডবোট ও ফাস্ট পেট্রোল ক্রাফট মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী ১৬টি বিওপিতে প্রতিটিতে ১০ জন করে স্ট্রাইকিং রিজার্ভসহ মোট ৭০০ জনের বেশি বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।আরও পড়ুন: দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, নারী আটকনির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের লক্ষ্যে ১১টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব নির্বাচনী এলাকায় বিজিবির মোতায়েন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। অন্য উপজেলাগুলোতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের সঙ্গে সমন্বয়ে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।পাশাপাশি ৯টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩০টি ফোকাল পয়েন্টে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হবে এবং ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে।বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা আইনের আওতায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে নাগরিক সমাজের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে।