আঘাতে কাছে আসা, আঘাতেই প্রস্থান

সময়টা ২০২৩ এর ১২ই জুন। সবশেষ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এই দিনটিতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা দেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূত্রপাত ঘটায়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত। তিনি দলটির সভানেত্রী এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় এবং বরিশালের সেসময়কার প্রভাবশালী সেরনিয়াবাত পরিবারের সদস্য। এই খোকন সেরনিয়াবাতের বিপরীতে সবচেয়ে সক্রিয় বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির এবং দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম। অন্তত ভোটগ্রহণের আগেরদিন পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বেশ জোরালো শক্তি দেখাতে সক্ষম হন।যদিও নির্বাচনের ফলাফলে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন জনাব ফয়জুল করীম। তবে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভোট কারচুপি এবং ফলাফল 'হাইজ্যাকের'। বিষয়টি পরবর্তীতে গড়ায় আদালতে। তবে ওই নির্বাচনের দিনে সরাসরি হামলার শিকার হন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী। এখনো সোশ্যাল মিডিয়া বা ইউটিউব ঘাটলে সেদিনের ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়। যেখানে রক্তমাখা মুখে ক্যামেরার সামনে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় এই রাজনৈতিক নেতাকে। এই ঘটনা 'প্রেস্টিজ ইস্যু' সৃষ্টি করে দলটির জন্য। কারণ বরিশালকে তারা একপ্রকার নিজেদের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচয় দেয়। অন্যদিকে দলের শীর্ষ একজন নেতার স্থানীয় নির্বাচন ছিল এটি। সেহেতু এমন ঘটনা সেখানে তাদের কাছে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত ছিল না৷এই ঘটনা সেদিন দেশের রাজনীতির নতুন একটি অধ্যায়ের বীজ বপন করেছিল; যা পরবর্তীতে আর মহীরুহ না হতে পারলেও অন্তত চারাগাছ হয়েছিল। আর তা হলো রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে ব্যাবধান থাকা সত্বেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কাছাকাছি আসা। সৈয়দ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার পর ওই ঘটনার নিন্দা জানায় বিএনপি-জামায়াতসহ অনেক রাজনৈতিক দল। তবে প্রতিবাদে সবচেয়ে বেশি সরব ছিল জামায়াত।অন্যদিকে নিজ দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতার ওপর এমন হামলার ঘটনা দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামকে বাধ্য করে দলটিকে তৎকালীন সরকারি দলের সরাসরি বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে। বরিশালের ঘটনার পর ইসলামী আন্দোলন রাজনীতির যে ময়দানে অবস্থান নিতে বাধ্য হয় সেখানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভূমিকা রাখা অন্যতম বড় দলটি ছিল জামায়াত। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গতির কারণে দুটি দল দ্রুতই কাছাকাছি চলে আসা শুরু করে।এরপরের ঘটনাপ্রবাহ তো রাজনীতি সচেতন যে-কারো স্মৃতিতে এখনো তাজা থাকারই কথা। অভ্যুত্থানকালে ২৪ এর ১৮ই জুলাই জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার ভিডিও বার্তা এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্র-জনতার দাবির সঙ্গে দলীয়ভাবে একাত্মতা ঘোষণা করেন। ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, তার পাশেই বসে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ অনেকে। সেসময় আন্দোলনে অংশগ্রহণের দায়ে সরকারি বাহিনীর হাতে ধরপাকড়ের শিকার হন দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী। এমনকি শেষ পর্যন্ত হাসিনা সরকারের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয় দলটির কার্যক্রম।অন্যদিকে অভ্যুত্থানে দলীয়  ব্যানার নিয়ে রাজপথে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। শিক্ষার্থীদের পক্ষে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন খোদ দলটির আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। কারফিউ ভঙ্গ করে রাস্তায় নামেন ফয়জুল করীম। অভ্যুত্থান দুটি দলকে কাছাকাছি এনে দেয় আরও।অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্র সংস্কারের। পুনরায় কেউ যেন স্বৈরাচার না হয়ে উঠতে পারে সেজন্য নানা নীতিমালা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ড. ইউনুসের নেতৃত্বে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গঠন করা হয় ঐক্যমত্য কমিশন। সেখানে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবে মত দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয় অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে। এই কমিশনে নানা সংস্কার প্রশ্নে একাট্টা ভূমিকা রাখতে শুরু করে কয়েকটি দল। যার মধ্যে অন্যতম এই জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন। পরবর্তীতে সরকারের কাছে সংস্কার, নির্বাচন ও গণভোট ইস্যুতে নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে গিয়ে এক রাজনৈতিক প্লাটফর্মে আসা শুরু করে দল দুটি। এবার অবশ্য তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও কয়েকটি দল। তবে প্রায় সবগুলো দলই নিজ নিজ ব্যানারে ইসলামী রাজনৈতিক চর্চার মধ্যে থাকায় পুরো প্লাটফর্মটির গায়ে লাগে ধর্মীয় রঙ। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক বলয়।এই বলয় আরও শক্তি অর্জন শুরু করে গতবছর সেপ্টেম্বর থেকে। সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিতে রাস্তায় নামে তারা। এছাড়া নির্বাচনে সকলের জন্য সুযোগের সমতা এবং বিগত সরকারের আমলে নানা অপরাধের দায়ে দোষীদের বিচার নিশ্চিতও ছিল তাদের দাবি। এসব দাবিতে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বলয়ে যুক্ত হয় খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ অন্যরা৷ এই বলয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) যুক্ত হলেও ধর্মীয় রঙ তখনও গাঢ় জোটটির গায়ে৷ নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঢাকার পর তারা তাদের দাবিতে আট বিভাগে সমাবেশ করে রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তি প্রদর্শন করে৷ এর মধ্যে ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হলে ক্ষেত্র তৈরি হয় আন্দোলনের মাঠের জোট নির্বাচনের মাঠেও একতাবদ্ধ থাকার।জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এই বলয় সব দলের 'এক ভোট বাক্স' নীতির কথা বলেছিল জোরেশোরেই। তার পরিপ্রেক্ষিতে আট দলের মধ্যে শুরু হয়েছিল আসন সমঝোতার প্রক্রিয়া। ৩০০ আসনেই সমঝোতার মাধ্যমে এই দলগুলো একক প্রার্থী দেবার পরিকল্পনা নিশ্চিত করে। জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বে শুরু হয় প্রক্রিয়া। তবে চিত্রপট বদলে যেতে থাকে গত ডিসেম্বরের শেষদিকে। অনেকটা হঠাৎ করেই এই বলয়ে যুক্ত হয় অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং এক সময়ের জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। তাদের এক হবার মূল জায়গাটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে সবার কাছাকাছি অবস্থান। এবার ধর্মীয় রঙ অনেকটা ফিকে হয়ে এই বলয়ে দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের রঙ লালে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয় বিএনপি এবং ১১ দলীয় জোটের একটা গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জোরালো সম্ভাবনা।কিন্ত....। জোট না টেকার নানা গুঞ্জন আর জল্পনা-কল্পনার মাঝেই গত ১৬ই জানুয়ারি একক নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জানায় ইসলামী আন্দোলন। এর আগেরদিন অবশ্য  ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই ২৫৩ আসনে নিজেদের আসন সমঝোতার কথা ঘোষণা দেয় ১০ দল। যার দরুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচনের সম্ভাবনা কিছুটা হলেও হোঁচট খেয়েছে বলেই বিবেচিত হচ্ছে জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক শীর্ষ নেতার একটি স্থানীয় নির্বাচনে পরাজয় এবং লাঞ্ছিত হবার ঘটনা যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করেছিল তা খানিকটা ছন্দপতন তো ঘটলোই বলা যায়।রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে জোরালো কণ্ঠে এবার বাজলো বিভেদের সুর৷ এই বিভেদ-দূরত্ব এবং জোট ভাঙার পিছনে মূলত দুটি কারণ দাঁড় করিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান আনুষ্ঠানিক জোট ভাঙার সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন তার সারমর্ম অনেকটা এমনই যে, দেশে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে না চাওয়া নিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের কাছে জামায়াত আমিরের বক্তব্য এবং আসন সমঝোতা চলাকালীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি জামায়াতের 'বড় ভাই' সুলভ আচরণের কারণে তারা একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোটাদাগে এই দুই কারণে ছেদ ঘটেছে তাদের একসঙ্গে পথচলার৷ইসলামী আন্দোলনের দুটি অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে জামায়াত। তবে এখানে আমি উল্লেখ করতে চাই, তাদের প্রথম অভিযোগ নিয়ে জোটের আরেকটি দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের কথাটি। আলেম সমাজেও বেশ প্রসিদ্ধ এই ব্যাক্তিটি ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, "শরিআ আইন প্রতিষ্ঠা নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে ভুল বুঝেছে ইসলামী আন্দোলন"। তিনি বর্তমান দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটাও বলেন যে, হঠাৎ করেই বা একদিনে দেশে শরিআ আইন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ নিয়ে জনমনে এ প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে যে, জামায়াতের সঙ্গে তাদের চেনাজানা তো কম দিনের নয়৷ তাদের ধর্মীয় চেতনা ও দর্শন সম্পর্কেও তো ইসলামী আন্দোলন-এর ওয়াকিবহাল থাকার কথা৷ এছাড়া যেখানে জোটের শুরু রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গ নিয়ে সেখানে শেষে এসে 'শরীয়া আইন প্রতিষ্ঠা' নিয়ে এত গুরুত্ব দেবার কারণ কি? হয়তো সময়ই এই প্রশ্নের জবাব দেবে।গাজী আতাউর রহমান সাংবাদিক সম্মেলনে যেটা জানিয়েছেন যে, আসন বন্টন নিয়ে সমঝোতাকালে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক জরিপগুলোর প্রসঙ্গ তোলেন৷ সেসব জরিপে আগামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে জামায়াতের জনসমর্থনের চেয়ে অনেক কম জনসমর্থন দেখানো হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের। আমি মনে করছি আসন বন্টন নিয়ে তাদের ভাগাভাগিতে হয়তো এসব জরিপ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আর এই আচরণ বেশ অপমানজনক হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীমের কাছে৷ এই প্রতীয়মান হওয়াটাও হয়তো স্বাভাবিক। কারণ, তার দল সবশেষ কয়েকটি নির্বাচনে বেশকিছু পর্যায়ে ভোটের মাঠে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলো৷ তৃণমূলে বিশেষ করে কিছু ইউনিয়ন পরিষদে তাদের জনপ্রতিনিধিও হয়েছে। অবশ্য এসব নির্বাচনের বাইরে ছিল বিএনপি এবং জামায়াতসহ অনেক দলই। তো এসব ভোটের মাঠের চিত্র হিসেব করে আসন বন্টনে চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান শেষমেশ 'প্রেস্টিজ ইস্যু' তৈরি করেছে ইসলামী আন্দোলন নেতাদের কাছে৷ এখানটাতে আমি কিছুটা পিছনে ফিরে যেতে বাধ্য হই। সেই ২০২৩ সালর বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে।আমি আগেই বলেছি জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের মাঝে দর্শনগত ব্যবধান অনেক- সেটা রাজনৈতিক দর্শন এবং আধ্যাত্বিক দর্শন দুটোতেই। দুই দলের সাংগঠনিক পথচলাও বেশ ভিন্ন। দুই দলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিগত দিনে কাঁদা ছোড়াছুড়িও ছিল চোখে পড়ার মতো। সেরকম একটি অবস্থান রাতারাতি পরিবর্তন হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলটির 'প্রেস্টিজ ইস্যু'তে আঘাত লাগার সূত্র ধরে। একটি অভ্যুত্থান তাদেরকে কাছাকাছি আনার ক্ষেত্র তৈরি করে দিলেও বরিশালে নির্বাচন করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হবার ঘটনাটি এখানে কাজ করেছে 'বাটারফ্লাই ইফেক্ট' হিসেবে। অর্থাৎ একটি ছোট ঘটনা পরবর্তী বড় ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে৷একটি অপমানজনক পরাজয় দলটিকে ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের অপর একটি দলের রাজপথ এবং আন্দোলনের সঙ্গী করেছিলো। হয়তো সেটা কম সময়ের জন্য, তবুও করেছিলো। দলটির অতি সংবেদনশীল এই বৈশিষ্ট্য ২০২৩ সালের পরেও যেমন তাদের পথচলার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে ঠিক ২০২৬ এ এসেও একই প্রভাব ফেলেছে তাদের এই বৈশিষ্ট্য। হয়তো জাতীয় রাজনৈতিক জীবনে আবারও কোনো একদিন এই দুটি দল কাছাকাছি আসতে পারে৷ এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি কোনো পক্ষই। তবে সেদিন হয়তো প্রেক্ষাপট হবে এমনই কোনো না কোনো 'প্রেস্টিজ ইস্যু'।লেখক: শফিক মুন্সি, গণমাধ্যমকর্মী।