ওপেনিংয়ে ভালো করলেও নিয়মিতদের ওপর আস্থা রাখছেন হৃদয়

জাতীয় দলে মিডল অর্ডারে খেলেন। বিপিএলের চলমান আসরেও শুরু থেকে খেলেছেন ৩-৪ নম্বরে। তবে সর্বশেষ ৪ ম্যাচে দলীয় পরিকল্পনার কারণে খেলেছেন ওপেনিং পজিশনে। আর এই পজিশনে খেলতে নেমেই সাফল্যের দেখা পেয়েছেন হৃদয়। শুরুর ৬ ম্যাচে ১০৬ রান করা এই ব্যাটার শেষ ৪ ম্যাচে করেছেন ২৭২ রান। আর সেটাই ওপেনিং পজিশনের জন্য আলোচনায় এনেছে তাকে।আগামী মাসেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যদিও বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি যথাযথভাবেই নিচ্ছে বাংলাদেশ। যেহেতু বিশ্বকাপ সামনে আর ওপেনিং পজিশনের নিয়মিত ব্যাটার লিটন দাস এবং সাইফ হাসান তেমন ভালো ফর্মে নেই। তাই এই পজিশনে হৃদয়কে ভাবা হবে কিনা, তা নিয়ে একটি আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে হৃদয় জানালেন, এত অল্প সময়েই সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে নন তিনি। মিডল অর্ডারেই নিতে চান দায়িত্ব। আর ওপেনিং পজিশনের নিয়মিত ব্যাটারদের ওপর তার আস্থা আছে বলেও জানান এই ব্যাটার।  হৃদয় বলেন, 'জাতীয় দলে অনেক টপ অর্ডার ব্যাটার আছে। এবং তারা গত এক বছর ভালো করে এসেছে। আমি মনে করি না এই জায়গাটা … এই মুহূর্তে......এটা আমার চিন্তাভাবনা, দল কি চিন্তা করছে জানি না। যারা এতদিন ভালো করে এসেছে তাদের উপর অবশ্যই বিশ্বাসটা রাখা উচিত এবং আমি চাইব যে তারা আমাদের দেশকে সামনের দিকে ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করুক।'  আরও পড়ুন: অনুশীলনে যোগ দিলেন ওকস, আগামীকাল আসছেন বিলিংস এ প্রসঙ্গে হৃদয় আরও বলেন, 'আমার কাছে মনে হয় আপনারা খুব তাড়াতাড়ি একজনকে অনেক উপরে তোলেন আবার একজনকে অনেক নিচে খুব তাড়াতাড়ি নামান। খেলোয়াড়ের জায়গা থেকে অনুরোধ করব, আপনারাও একটু ধৈর্য নিয়েন। গত একটা বছর ওরা সবাই ভালো পারফর্ম করেছে এবং সর্বশেষ কয়েকটা সিরিজেও ভালো খেলেছে। এই মুহূর্তে আপনি কাকে রেখে... বিপিএল তো আপনি কাউন্ট করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক খেলা আলাদা, বিপিএল খেলা আলাদা। দোয়া করেন সবাই যেন ভালো করে।'  টুর্নামেন্টের মাঝপথে ওপেনিংয়ে আসার বিষয়টা নিয়ে হৃদয় বলেন, 'পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে সব জায়গায় খেলার অভ্যাস রাখা উচিত এবং সব জায়গায় কীভাবে অ্যাডাপ্ট করা যায় এটা খুব জরুরি। অনেক বড় বড় খেলোয়াড়ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আপ-ডাউন করে। আমাকে দল থেকে যখন আমাকে এই সুযোগ দিয়েছে, আমাকে যখন বলেছে আমি বলেছি যে আমার কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমি নিজে থেকেও মেন্টালি রেডি থাকি যে আমাকে যখন যেখানে নামাবে আমি চেষ্টা করব দলে সেভাবে অবদান রাখার জন্য। টপ অর্ডারে খেললে ইনিংসটা বড় করার সুযোগ থাকে এবং মিডেল অর্ডারে বা নিচের দিকে খেললে ইম্প্যাক্টফুল ইনিংসগুলো … ২৫, ৩০, ৪০, ৫০ যেগুলো যতটুকু করা যায়, এটিই।'  আরও পড়ুন: ইসাখিলের সেঞ্চুরির বদলে হৃদয়ের সেঞ্চুরি, রংপুরের কাছে পাত্তা পেলো না নোয়াখালী বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস। রংপুরে হৃদয়দের অধিনায়কও লিটন। বিশ্বকাপে ব্যাটিং পজিশন নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলাপ হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, 'আমাকে বলেছেন (লিটন), তুই ওয়ার্ল্ড কাপে তো মিডলেই খেলবি, যদি সবকিছু ঠিক থাকে ইনশাআল্লাহ। মিডলে খেললে তোর জন্য ভালো একটা প্র্যাকটিস হবে। কারণ মিডেলে খেলাটা একটু অন্যরকম খেলা। মিডেলের খেলা এত সহজও না যদি দেখেন। কিন্তু মিডেলে আবার যেটা বলেছি আগেও, আপনারা তো শুধু মনে করেন ৫০ গুলোই শুধু রান। ইম্প্যাক্টফুল ইনিংসও মিডলে কাউন্ট করা হয়। আমাকে এটাই বলেছে। আমিও ট্রাই করেছি যে ঐভাবে এবং শুরুটা মনে হয় তিন-চারে, চারেই করেছিলাম। পরে টিম থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে আমাকে উপরে যেতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত ছিল এটা।'