ইরানে চলমান বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। যাচাই করা পরিসংখ্যানের বরাতে রোববার (১৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছেন এক ইরানি কর্মকর্তা। ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের’ বিরুদ্ধে নিরীহ ইরানিদের হত্যার অভিযোগ তোলেন তিনি।বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, যাচাই করা নিহতের সংখ্যা ‘হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ তিনি দাবি করেন, ‘ইসরাইল ও বিদেশে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো’ রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেনি রয়টার্স। প্রতিবেদন অনুসারে, অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যেই তা ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি ইরানের ‘সবচেয়ে প্রাণঘাতী’ বিক্ষোভে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। আরও পড়ুন: ইরানে ফের বিক্ষোভের ডাক পাহলভির, এবার সাড়া দেয়নি কেউ তবে গেল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানের নেতাদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, তারা ৮০০ জনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছে। এর একদিন পর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জনসমক্ষে দেয়া এক ভাষণে ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ আখ্যা দেন এবং বিক্ষোভকারীদের সমর্থনের মাধ্যমে ইরানে প্রাণহানির জন্য তাকে দায়ী করেন। খামেনি বলেন, ‘আমরা দেশকে যুদ্ধে ঠেলে দেব না, কিন্তু অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তি ছাড়াও ছেড়ে দেব না’। এসময় তিনি ‘কয়েক হাজার মৃত্যুর’ কথা স্বীকার করেন, তবে এর জন্য দায়ী করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারীদের’। এদিকে, ইরানের বিচার বিভাগ ইঙ্গিত দিয়েছে যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আবারও শুরু হতে পারে। আরও পড়ুন: ট্রাম্প ‘বিশ্বাসঘাতক’, অভিযোগ ইরানি বিক্ষোভকারীদের ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কিছু কর্মকাণ্ডকে মোহারেব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ইসলামী আইনে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির আওতাভুক্ত। ‘মোহারেব’ একটি ইসলামী আইনি পরিভাষা, যার অর্থ ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা’। ইরানি আইনে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অন্যদিকে পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ‘এখন ইরানের জন্য নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময়।’ সূত্র: রয়টার্স