সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের দ্বারা সংঘটিত ভাঙচুর, সহিংসতা ও কর্তব্যরত একজন নারী চিকিৎসককে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।রোববার (১৮ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। চিকিৎসাসেবা একটি সর্বোচ্চ মানবিক ও নৈতিক দায়িত্বপূর্ণ পেশা। সেই পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর চালানো, দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসককে বিশেষ করে একজন নারী চিকিৎসককে হেনস্তা করা এবং কর্তব্যরত তিনজন ওয়ার্ডবয়কে আহত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনা শুধু হাসপাতালের শৃঙ্খলাই ভঙ্গ করেনি বরং পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন তিনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা ও স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলেই আজ হাসপাতালগুলো নিরাপদ আশ্রয়স্থল না হয়ে ভয়ের জায়গায় পরিণত হচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেখানে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকবেন, সেখানে সাধারণ মানুষ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে এমন আশা করা অবাস্তব। বিশেষ করে নারী চিকিৎসকের প্রতি হেনস্তার ঘটনা নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে নতুন করে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কর্মস্থলে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ রাষ্ট্রযন্ত্রের এই চরম ব্যর্থতার দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। তিনি আরও বলেন, এরকম ঘটনা এবারই প্রথম এমন না, এর আগেও এভাবে কর্মস্থলে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবায় জড়িতরা আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু তার বিচার আমরা হতে দেখিনি। ফলে এমন ঘটনা বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। রোগী অথবা রোগীর স্বজনদের দায়িত্ব অবহেলা বিষয়ক কোনো অভিযোগ থাকলে তা সুরাহা করার জন্য বিএমডিসিসহ সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে কিন্তু সেই পদ্ধতি অনুসরণ না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ। আরও পড়ুন: আর শোকগাঁথা নয়, গণতান্ত্রিক মানুষের বিজয়গাঁথা রচনা করতে হবে: তারেক রহমান স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন, রোগী ও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকা সত্ত্বেও এখনো তার বাস্তবিক প্রয়োগ সম্ভব হয়নি, স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ করতে বিদ্যমান স্বাস্থ্যখাতের প্রতিটি স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত আইনের বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ করা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ করতে রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে যেন ভবিষ্যতে চিকিৎসক ও রোগীদের মাঝে বিদ্যমান যে দূরত্ব তা কমে আসে। অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল দোষীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলেও জানান তিনি। গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের দ্বারা সংঘটিত ভাঙচুর, সহিংসতা ও কর্তব্যরত একজন নারী চিকিৎসককে হেনস্তার ঘটনা ঘটে।