সেতুর পাটাতন ভেঙে ট্রাক আটকে যান চলাচল বন্ধ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে খিরাই নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতুর পাটাতন ভেঙে গাছবোঝাই ট্রাক আটকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দাউদকান্দি, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার একাধিক গ্রামের মানুষ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে খিরাই নদের উপজেলার খামারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, দাউদকান্দি উপজেলার পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চল, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সহজ করার জন্য ২০০০ সালের ২১ অক্টোবর খিরাই নদের ওপর বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর ব্যবহারের পর সেতুটির পাটাতনগুলো অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে এই সেতুর ওপর দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাসহ কুমিল্লা ও চাঁদপুর দুই জেলার মানুষ চলাচল করতেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির ওপর আটকে থাকা ট্রাক থেকে গাছের গুঁড়িগুলো নামিয়ে ট্রাকটি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন ট্রাকের চালক ও চালকের সহকারী। ট্রাকচালক মো. শামীম হোসেন বলেন, আমরা সড়কের সরকারি গাছের গুঁড়ি বোঝাই করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা ঘাটে নিয়ে যাচ্ছিলাম। সেতুর ওপর উঠে মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছানোর পর সেতুর দুটি স্টিলের প্লেট ভেঙে চাকা আটকে যায়। এ সময় লাফিয়ে ট্রাক থেকে নেমে আমি ও আমার হেলপার দুজন প্রাণে রক্ষা পাই। এতে আমাদের অন্তত ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. সোলায়মান বলেন, হালকা গাড়ি, অটোরিকশা ও রিকশা সেতুর ওপর উঠলেই সেতুটি দুলতে থাকে। মনে হয়, এই বুঝি এটি ভেঙে পড়ছে। তবে এতগুলো গাছের গুঁড়ি নিয়ে ট্রাক পারাপারের সময় সেতু ভেঙে ট্রাক নদে পড়েনি, সেটাই ভাগ্য ভালো। এ সড়কে সিরিয়ালের ১০৫টি এবং সিরিয়াল ছাড়া অসংখ্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। সেতুটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানান তিনি। স্থানীয় মারুকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, সেতুটি ২০২২ সালে কিছুটা সংস্কার করা হলেও যানবাহন চলাচলের উপযোগী হয়নি। গাড়ির চালকেরা নিজ দায়িত্বে যানবাহন চালাচ্ছেন, যার কারণে সেতুতে গাড়ি আটক হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হচ্ছে এবং জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ট্রাকটি ওভারলোড করে গাছের গুঁড়ি নিয়ে যাওয়ার কারণেই মূলত দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেতুটি মেরামত করে যানচলাচল উপযোগী করতে অন্তত ৭দিন সময় লাগবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। জাহিদ পাটোয়ারী/আরএইচ/জেআইএম