গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয় তুলে নিলো ঢাকা ক্যাপিটালস

প্লে-অফের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে আগেই। তাই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটা ঢাকার জন্য ছিল স্রেফ নিয়মরক্ষার। শেষ ম্যাচে চট্টগ্রামকে হারিয়ে জয় দিয়ে এবারের বিপিএলের যাত্রা শেষ করলো ঢাকা ক্যাপিটালস। এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের ১ বল বাকি থাকতে ১৭০ রানে অলআউট হয় ঢাকা ক্যাপিটালস। জবাব দিতে নেমে ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালসের ইনিংস।জয় দিয়ে এবারের বিপিএলের যাত্রা শেষ করলো ঢাকা ক্যাপিটালস। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৪২ রানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় পেয়েছে রাজধানীর দলটি। রোববার (১৮ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের ১ বল বাকি থাকতে ১৭০ রানে অলআউট হয় ঢাকা ক্যাপিটালস। জবাব দিতে নেমে ১২৮ রানেই থামে চট্টগ্রামের ইনিংস।        সাইফ হাসানের কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু বিপিএলের এবারের আসরের শুরু থেকেই মারমুখী এই ব্যাটার ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। প্রথম ৮ ম্যাচ খেলে তিনি করেন মাত্র ৬০ রান। তার মধ্যে দুই ম্যাচেই আউট হয়েছেন শূন্য রানে। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটাতে সাইফ জ্বলে ওঠলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে। ৪৪ বলে খেললেন ৭৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস।  জবাব দিতে নেমে প্রথম বলেই মোহাম্মদ হারিসের উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারের শেষ বলে মাহমুদুল হাসান জয়কে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে ফেলেন ইমাদ ওয়াসিম। তার পরের ওভারে সাদমান ইসলামকে উসমান খানের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। প্রথম তিন ওভারে ১৯ রান তুলতেই টপ অর্ডারের এই তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস।  আরও পড়ুন: অনুশীলনে যোগ দিলেন ওকস, আগামীকাল আসছেন বিলিংস চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন হাসান নাওয়াজ ও নাঈম শেখ। তবে নাঈম রানআউটে কাটা পড়লে ভাঙে ৩১ বলে ২৪ রানের সেই জুটি। এরপর হাসান নাওয়াজও বেশি দূর এগোতে পারেননি। ২১ বলে ১৯ রান করে তোফায়েল আহমেদের বলে তাসকিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ব্যাটার।  আসিফ আলি ফিরেছেন ১৮ বলে ১২ রান করে। সাইফউদ্দিনের বলে উসমান খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই পাকিস্তানি। ওই ওভারেই সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪ বলে ১ রান করা তানভীর ইসলাম।  শেষদিকে আমের জামালের ২৬ বলে ৪২ রানের ইনিংস শুধু হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ঢাকার হয়ে একাই ৪ উইকেট শিকার করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাসকিন আহমেদ শিকার করেছেন ৩ উইকেট। এছাড়া ইমাদ ওয়াসিম ও তোফায়েল আহমেদ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।        রোববার (১৮ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় ঢাকা ক্যাপিটালস। উদ্বোধনী জুটিতে ২৫ রান যোগ করেন দুই ওপেনার জুবাইদ আকবারি ও উসমান খান। ৬ বলে ১৬ রান করে তানভীর ইসলামের বলে আমের জামালের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন উসমান।    আরও পড়ুন: ইসাখিলের সেঞ্চুরির বদলে হৃদয়ের সেঞ্চুরি, রংপুরের কাছে পাত্তা পেলো না নোয়াখালী তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে প্রতিপক্ষের বোলারদের একাই শাসন করতে থাকেন সাইফ হাসান। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও এদিন তিনি জ্বলে ‍ওঠলেন। জুবাইদের সঙ্গে গড়লেন ৬০ বলে ৯০ রানের জুটি। দলীয় ১১৫ রানের মাথায় জুবাইদকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন তানভীর ইসলাম। পরের বলে শামীমকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগও তৈরি করেছিলেন বাঁহাতি এই স্পিনার।  দলীয় ১৩২ রানের মাথায় ফেরেন সাইফ হাসান। ৫টি করে ছক্কা ও চারে ৪৪ বলে ৭৩ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরান মুকিদুল ইসলাম। এরপরই তাদের ব্যাটিং অর্ডারে নামে ধস। সাব্বির রহমান ফেরেন ৯ বলে ৯ রান করে।   বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল মোহাম্মদ মিঠুন ও সাইফউদ্দিন দুই অঙ্কের ঘর ছুঁয়েছেন। মিঠুন করেছেন ১২ বলে ১৫ ও সাইফউদ্দিন ৮ বলে ১২। ইমাদ ওয়াসিম করেছেন ৩ বলে ২ ও তোফায়েল ২ বলে ১ রান করেছেন। মারুফ ফিরেছেন শূন্য রানে। শেষ পর্যন্ত ১ বল বাকি থাকতেই থামে ঢাকার ইনিংস। চট্টগ্রামের হয়ে তানভীর ইসলাম নিয়েছেন ৩ উইকেট। শরিফুল ও আমের জামাল নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া মুকিদুল ও মেহেদী হাসান নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।