শেরপুরে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান যেন ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। গত বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩২টি ইটভাটার চিমনি ও কিলনসহ যাবতীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও, বাস্তবে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ‘আলাদিনের দৈত্যের’ ইশারায় চলতি মৌসুমেও জেলাজুড়ে দাপটের সঙ্গেই চলছে এসব অবৈধ ইটভাটা। স্থানীয়দের অভিযোগ, লোক দেখানো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন।গত বছর ৩২টি ইটভাটা ভেঙে দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই সেগুলো ফের সচল হয়ে ওঠে। চলতি বছর সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে অর্ধশতাধিক অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ভাটায় কয়লার পরিবর্তে দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ। ফলে এলাকায় বায়ুদূষণ চরম আকার ধারণ করেছে এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।সরেজমিনে দেখা গেছে, ইট তৈরির কাঁচামাল জোগাতে প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে আনা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা হারিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভাটা মালিকদের বারবার চিঠি দিয়েও কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি ২৯টি ভাটায় অভিযান চালিয়ে ৮৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং কাঁচা ইট ধ্বংস করা হলেও, পরক্ষণেই আবার শুরু হচ্ছে ইট পোড়ানোর কাজ।শেরপুর জেলায় বর্তমানে সচল থাকা ৩৮টিসহ মোট ৫৭টি ইটভাটার সব কটিই অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, অর্থাৎ জেলার ১০০ শতাংশ ইটভাটাই আইন বহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক অভিযানে এসব অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ২৯টিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মোট ৮৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।আরও পড়ুন: রংপুরে বিভাগে ৭২ ইটভাটায় অভিযান, সাড়ে ৬ কোটি টাকা জরিমানাজেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, একাধিক নোটিশের মাধ্যমে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করলে গত বছরের মতো এবারও সব ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান কঠোর অবস্থানের দাবি জানিয়ে বলেন, শেরপুরে কোনোভাবেই অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না।তবে প্রশাসনের এই ‘কঠোরতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, নামমাত্র জরিমানা ও লোক দেখানো অভিযান বন্ধ করে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।