চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণভোট কার্যক্রম ও মতবিনিময় সভা তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আজকে রাতে চীনের রাষ্ট্রদূত এখানে আসবে এবং আমরা তিস্তা প্রকল্প এলাকায় যাবো। আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের বিষয়ে আমাদের যা যা মতামত, এখানে মাঠ পর্যায়ে চারটা মিটিং হয়েছে না? চীনারা এসে আপনাদের সাথে কথা বলে গেছে।’ রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘প্রথম যে প্রকল্পটা দিয়েছিল ওটা শেলফে তোলা ছিল। ওটা নামিয়ে জনগণের মতামত নিয়ে আমরা আমাদের কাগজপত্র চায়নাতে পাঠিয়ে দিয়েছি। চায়নারা ওটা গ্রহণ করে ওদের যে মিনিস্ট্রি অব কমার্স সেখানে দিয়েছে।’ তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বর্তমানে দুটি ধরনের সমীক্ষা চলছে উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন,‘এখন এটা দুই ধরনের সমীক্ষা চলছে। একটা হচ্ছে এই প্রকল্পটার যে ফিজিবিলিটি হয়েছে, এটা শতভাগ ফুলপ্রুফ কি না, সঠিক কি না; এটা হচ্ছে প্রযুক্তিগত দিক। আরেকটা হচ্ছে আর্থিক দিক। এখানে বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ তো, এই আর্থিক বিনিয়োগটা চীন সরকার করলে ওটা তাদের জন্য টেকসই হবে কি না।’আরও পড়ুন: নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই: উপদেষ্টা রিজওয়ানাউপদেষ্টা আরও বলেন, ‘চীনের রাষ্ট্রদূত আজকে আসবেন, কালকে উনি আপনাদের সামনে বলে যাবেন যে চীন এই প্রকল্পটা করতে ফুললি কমিটেড। তারা এই প্রকল্পটা করবে এবং বাংলাদেশকে তারা এই সহায়তাটা দেবে।’ নিজের আগ্রহের কথা তুলে ধরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমার খুব আগ্রহের একটা জায়গা ছিল যে আমার সময়ে যদি পেপার ওয়ার্কগুলো অন্তত আমি করে যেতে পারতাম, কিন্তু আসলে আমাদেরও কিছু পদ্ধতি আছে, তাদেরও কিছু পদ্ধতি আছে। আমি আপনাদেরকে এতটুকুন বলতে পারি আমাদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে যে যে পদ্ধতি করার কথা—মাঠ পর্যায়ে আলোচনা, ন্যাশনাল লেভেলে আলোচনা—আমরা সবকিছু করে সময়মতো চীনের কাছে এটা পৌঁছে দিয়েছি। এখন চীন তার সময় নিচ্ছে। কালকে রাষ্ট্রদূত মহোদয় আসবেন এবং উনি কয়েকজনের সাথে কথা বলবেন।’ শ্যামাসুন্দরী সংস্কার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি যে মন্ত্রণালয় চালাই সেই মন্ত্রণালয়ে প্রচুর টাকা আমার হাতে থাকে না। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে থাকে না। আমি শ্যামাসুন্দরী প্রকল্পের জন্য ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। এই কাজটা মূলত দুইটা সংস্থা করবে। একটা সংস্থা হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, আরেকটা সংস্থা হচ্ছে এখানকার সিটি কর্পোরেশন।’তিনি আরও বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে বর্জ্য যাতে না যেতে পারে তার জন্য কিছু কিছু স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যে কাজটা করবে সেটা পেয়েছে মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। আর সিটি কর্পোরেশন এখন টেন্ডার করেছে গত বছরে ২২ ডিসেম্বরে টেন্ডার গ্রহণ করেছে। টেন্ডার দিয়েছে কি না আমি বলতে পারছি না।’সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘মোট অগ্রগতি হয়েছে ১২ ভাগ আর ১৪ কোটি ৭০ লাখের মধ্যে ৪২ লাখ ৩১ হাজার টাকা এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে।’