সাড়ে ছয় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন আনোয়ারা জামাল

বাংলা অভিনয়জগতের জীবন্ত ইতিহাস, কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা জামাল। ষাটের দশকের সাদা-কালো পর্দায় তার চোখ যেমন জানিয়েছে শত শত গল্প, রঙিন টেলিভিশন পর্দাতেও তার চোখে খেলা করেছে অগণিত আবেগ।পর্দায় যার হাসিতে আশ্বাস, আর অশ্রুতে লুকিয়ে থাকতো নিঃশব্দ আর্তনাদ। কখনো মমতাময়ী মা, কখনো নিঃসঙ্গ নারী, আবার কখনো শক্ত চরিত্রে তিনি হয়ে উঠেছেন দর্শকের আপনজন। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে সাড়ে ছয় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শুধু চরিত্রই গড়েননি, গড়ে তুলেছেন আবেগের এক অমর ভাণ্ডার। আজ এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে আনোয়ারা জামালের। তার অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘নাচঘর’। বাংলা ও উর্দু, দুই ভাষাতেই তিনি একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। জহির রায়হানের ‘সঙ্গম’, ‘জানাজানি’সহ বেশ কিছু ছবিতে সহ-অভিনেত্রী চরিত্রে অভিনয়ের পর ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বালা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথমবার নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তবে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা চলচ্চিত্রটি ছিল আনোয়ারার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। আনোয়ারা জামালের চলচ্চিত্র জীবনের উল্লেখযোগ্য তিনটি ছবি হলো ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘দেবদাস’ এবং ‘শুভদা’। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে সেরা চলচ্চিত্রসহ ১১টি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে এ চলচ্চিত্রগুলি। অভিনেত্রী আনোয়ারা অর্জন করেন সেরা অভিনেত্রীর সম্মান। ১৯৭২ সালের পর থেকে তিনি মূলত বেশি অভিনয় করেছেন ভাবী, চাচি, শাশুড়ি ও মায়ের চরিত্রে। এসব চরিত্রেই তিনি সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছেন বলে মনে করেন আনোয়ারা জামাল। আরও পড়ুন: পর্দায় আসছে চঞ্চল-পরীমণি জুটি শুধু চলচ্চিত্রই নয়, অসংখ্য মঞ্চনাটক ও টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা অভিনেত্রীসহ মোট আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ কিংবদন্তী অভিনেত্রী। আরও পড়ুন: রমা দাশগুপ্ত থেকে তিনি মহানায়িকা ব্যক্তিজীবনে বর্তমানে চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী। তবে ভালো গল্প ও উপযুক্ত চরিত্র পেলে আবারও পর্দায় ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।