একের পর এক বিদেশি অপারেটর টার্মিনাল পরিচালনায় এলেও হিন্টারল্যান্ড কানেকটিভিটি বা ব্যাকআপ যোগাযোগে পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম বন্দর। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯৬ শতাংশ পণ্য সড়ক পথে পরিবহন হওয়ায় মহাসড়কে হচ্ছে তীব্র যানজট। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নানামুখী জটিলতায় কাজে লাগানো যাচ্ছে না নৌ কিংবা রেলপথকে।বছরে ৩২ থেকে ৩৩ লাখ কনটেইনার এবং ১৩ কোটি মেট্রিক টন কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নতুন করে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে ও পতেঙ্গা টার্মিনাল অপারেশন শুরু করেছে। কয়েক বছরের মধ্যে যুক্ত হবে লালদিয়া টার্মিনাল। তবে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে যতটা অগ্রগতি হচ্ছে, ততটা গতি পাচ্ছে না হিন্টারল্যান্ড কানেকটিভিটি বা দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে বন্দরের যোগাযোগ। বর্তমানে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের মাত্র ৪ শতাংশ পণ্য নৌ ও রেলপথে পরিবহন হয়। বাকি ৯৬ শতাংশের চাপ পড়ে মহাসড়কে, যা তীব্র যানজট সৃষ্টি করছে এবং বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল করছে বন্দরকেন্দ্রিক ৫০ হাজারের বেশি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারভর্তি লরি। অথচ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কাজে লাগানো যাচ্ছে না নৌ এবং রেলপথকে। চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, আমাদের বড় রাস্তাঘাট ও ইন্টারলাইন কানেক্টিভিটি দরকার। বর্তমানে থাকা লেন যথেষ্ট নয়। অনেক কার্বোখালি পণ্য ইন্টারল্যান্ডে যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত আইসিডি না থাকায় ভবিষ্যতে বিশাল ট্রাফিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে। আরও পড়ুন: কেমিক্যালসহ বিপজ্জনক পণ্য নিয়ে বিপাকে চট্টগ্রাম বন্দর, বাড়ছে বিস্ফোরণ ঝুঁকি এদিকে, ২০৩০ সাল নাগাদ অপারেশনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকার দুই মেগা প্রজেক্ট- বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের। এতে জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘রেল, রোড ও বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে টার্মিনাল তৈরি হলেও পণ্য পরিবহন বিলম্বিত হবে।’ বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আমদানি পণ্যের ৮৫ শতাংশ গন্তব্য চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে। একইভাবে রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রেও ৮৫ শতাংশ ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পৌঁছায়। বাকি মাত্র ১৫ শতাংশই চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের জন্য। পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ভলিউমের ডাবল বা ট্রিপল পরিমাণ পণ্য চট্টগ্রাম থেকে সারা দেশে পাঠাতে হলে কানেক্টিভিটি উন্নয়ন অপরিহার্য। না হলে নতুন টার্মিনাল থেকে পণ্য দেশের অন্য প্রান্তে পৌঁছাবে কীভাবে? এ পরিস্থিতিতে জটিলতা এড়িয়ে সড়ক এবং রেলপথের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের কাছে পরিকল্পনা পাঠিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের রোড, রেল এবং ইনল্যান্ড ট্রান্সপোর্টের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য মাল্টি মডেল ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।