আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে উদ্ধত আচরণ ও নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর যথাসময়ে উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বা তার আগে রুমিন ফারহানাকে রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান। এ সময় রুমিন ফারহানা উত্তেজিত হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘এক্সকিউজ মি স্যার, মাফ করবেন। স্যার, দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম। এটাই শেষবার। আই ওয়ার্নিং ইউ। আমি আপনাকে সর্তক করছি। আই উইল নট লিসেন টু দিস। এরপর আমি আর এ বিষয়ে শুনবো না।’ আরও পড়ুন: ‘মব’ সৃষ্টি ও নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন রুমিন ফারহানা, অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেটের সেদিনই রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির অভিযোগ করে নির্বাচনী অনুসন্ধ্যান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে চিঠি দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার। এর একদিন পর রোববার রুমিন ফারহানাকে শোকজ নোটিশ দেন রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। নোটিশে তিনি বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রমিন ফারহানা ৪০০-৫০০ লোকের উপস্থিতিতে জনসভায় বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনসভা বন্ধ করতে বললে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্নরকম হুমকি প্রদান করেন। যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।