‘গ্রামীণ জনপদে গণভোট নিয়ে নীরবতা’, ‘সব দলের তোপের মুখে ইসি’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। ৪৫ হাজার কোটির অপচয় প্রকল্প - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকের শিক্ষার মান বাড়ানোর নামে তড়িঘড়ি করে ৪৫ হাজার কোটি টাকা অপচয়ের এক প্রকল্প নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-পিইডিপি-৪ শেষ না হতেই অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বড় বাজেটের আরেকটি প্রকল্প নেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। আগামী পাঁচ বছরে, বিদ্যমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাইরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।   শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, পিইডিপি-৫ নামের এ প্রকল্পটির লক্ষ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য, টেকসই ও উচ্চমানের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি শিশু শক্ত ভিত্তিগত সাক্ষরতা ও গণিতে দক্ষতা অর্জন করবে এবং একুশ শতকের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। বদলে যাওয়া হিসাব মেলাতে কৌশলী প্রচারে দলগুলো - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জিততে হলে ভোটারের মন জয় করতেই হবে। এই কাজে নিজেদের আদর্শ-অবস্থান সামনে রেখে কৌশল ঠিক করে দলগুলো। প্রচারে ভিন্নতা ও নতুনত্বেও থাকে নজর। অভ্যুত্থান-পরবর্তী ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনেও তাই নিজেদের মতো করে কৌশল ঠিক করে প্রচার শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি, জামায়াতের ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি।   পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নামছে বিএনপি। দীর্ঘদিনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগবিহীন এবারের ভোটের মাঠে প্রধান প্রতিপক্ষ সাবেক জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল এনসিপিসহ একাধিক নতুন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের কারণে এই নির্বাচনের সমীকরণও নতুন।সব দলের তোপের মুখে ইসি, প্রশাসন - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি), প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত জোটের শরিক এনসিপিসহ কয়েকটি দলও অভিযোগ করছে। গত ২৫ বছরে বিএনপি ও জামায়াত জোট করে তিনটি নির্বাচন করলেও এবার আওয়ামী লীগশূন্য মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে ভোটে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিদ্ধ করছে।  রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেছেন, ইসির কিছু কর্মকর্তা একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ প্রশাসন ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তা একটি দলের প্রতি ন্যক্কারজনকভাবে কাজ করছেন। গ্রামীণ জনপদে ‘গণভোট’ নিয়ে নীরবতা - দৈনিক মানবজমিনের সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোকজনের আড্ডা, হাট-বাজার কিংবা চায়ের দোকান কোথাও তেমন আলোচনায় নেই আসন্ন গণভোটের বিষয়টি। গ্রামের অধিকাংশ ভোটাররা স্পষ্টভাবে জানেন না গণভোট কী, কেন আয়োজন করা হচ্ছে, এতে কীভাবে মতামত জানাতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের প্রভাব কী- এসব বিষয়ে বেশির ভাগ ভোটারেরই সুস্পষ্ট ধারণা নেই। তৃণমূলে এখনো পৌঁছেনি গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট বার্তা।   মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম না থাকায় গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ গণভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়া বুঝতে পারছেন না। ফলে গ্রামীণ জনপদে গণভোট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে অনাগ্রহ ও নীরবতা। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় পুরোটা সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চলে। পক্ষে-বিপক্ষে মতামতসহ সংস্কার প্রস্তাবও চূড়ান্ত করে ড. মুহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার। সংস্কারের বৈধতা দিতে এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তবে সেই সংস্কার ও গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আলোচনা ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি, অপপ্রচার চলছে, ব্যবস্থা নেই - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবয়সী এক নারী। একটি হাত নেই। উত্তরবঙ্গ টেলিভিশন নামের একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি ভিডিওতে তিনি বলছেন, একটি দলের নেতারা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন; কিন্তু কার্ড দেননি। তিনি আরও বলছেন, এই ঘুষখোর দলকে তিনি আর ভোট দেবেন না। ভোট দেবেন কোন দলকে, সেটাও তিনি বলেছেন।  ভিডিওটি সত্যি নয়। প্রথম আলো যাচাই বা ফ্যাক্ট চেক করে দেখেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি। তবে হাত না থাকা নারীর চেহারার সঙ্গে মিল আছে ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসে হাত হারানো পোশাক কারখানার শ্রমিক রিক্তার।সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রে জড়াচ্ছে কিছু গৃহকর্মী! - দৈনিক ইত্তেফাকের খবর এটি।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকাল গৃহকর্মী ছাড়া অনেক পরিবারের জীবন কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে এক শ্রেণির গৃহকর্মীর ভয়ংকর হয়ে উঠছে। তারা সরাসরি অপরাধচক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করছে। নিরীহ বেশভূষা ধারণ করে কোনো বাসায় কাজ নিয়ে অনেক গৃহকর্মী পরিকল্পিতভাবে চুরি, ডাকাতি থেকে শুরু করে নির্যাতন, মারধর এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে।  এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীদের। বিশেষ করে যারা বাসায় শিশু ও বয়জ্যেষ্ঠদের রেখে যান তাদের দুশ্চিন্তা আরো বেশি। পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খুন, চুরি-ডাকাতি ও পরিকল্পিত প্রতারণার মতো অন্তত পাঁচটি গুরুতর অপরাধের ঘটনা ঘটেছে যেগুলোর সঙ্গে গৃহকর্মীরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন।