দেশে চলমান সংকট ও অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) অনুমতি দেয়া হয়েছে।রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, ‘বিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানকে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এখন সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে এলপিজি আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমদানি করা গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভারসাম্য আসবে।’ আরও পড়ুন: গ্যাস সিলিন্ডার যেন চোরাই পণ্য, চলছে ব্যবসায়ীদের ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’ তবে আপাতত সরকার শুধু এলপিজি আমদানির পর্যায়েই যুক্ত থাকবে। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত হওয়ার আপাতত পরিকল্পনা নেই। এসব কাজ বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই করা হবে বলে জানা গেছে। এর আগে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে ১০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিল বিপিসি। চিঠিতে বলা হয়, দেশের এলপিজি বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটের সময় সরকারিভাবে বাজারে হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। ফলে সরবরাহ-ঘাটতি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলার কার্যকর কোনো হাতিয়ার সরকারের হাতে থাকে না। নীতিগত অনুমোদন পেলে বিপিসি জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে দ্রুত বাজারে সরবরাহ করবে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। বিপিসির ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: এলপি গ্যাস সংকটের নামে আড়াই হাজার কোটি টাকা লুট! এদিকে, সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৭০০ টাকার বেশি। সরজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে ১২ কেজি এলপিজি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা বেশি। আর ৩৫ কেজি সিলিন্ডারের জন্য বাড়তি নেয়া হচ্ছে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, বাজারে থাকা সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের মধ্যে বর্তমানে মাসে দুইবার রিফিল হচ্ছে সোয়া কোটি সিলিন্ডার। সে হিসেবে প্রতি সিলিন্ডারে এক হাজার টাকা বাড়তি নেয়া হলেও মাসে গ্রাহকের পকেট থেকে লুটে নেয়া হচ্ছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।