গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হচ্ছে। ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠছে।সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রির বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ন্যাটোর আট সদস্য দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা জুন থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে। এই তালিকায় রয়েছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সভাপতি দেশ সাইপ্রাস রোববার (১৮ জানুয়ারি) ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকের আহ্বান করে। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে আট দেশের নেতারা সতর্ক করেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা একটি ‘বিপজ্জনক নিম্নগামী চক্র’ তৈরি করতে পারে। আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা: ইউরোপের ৮ দেশের ওপর শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্টোনিও কস্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বলেছেন, ইইউ সদস্য দেশের সঙ্গে বৈঠকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে সবাই দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড ঘিরে যেকোনো ধরনের বলপ্রয়োগ প্রতিরোধে সবাই ঐক্যবদ্ধ। এদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করে গ্রিনল্যান্ড নেয়া যাবে না। একই সুরে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ চালু থাকবে, তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো আপস নয়। ট্রম্পের এমন সিদ্ধান্তের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, ন্যাটো মিত্রদের যৌথ নিরাপত্তা রক্ষায় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ করা সম্পূর্ণ ভুল। এটি নিয়ে সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। আরও পড়ুন: ট্রাম্পের দখল হুমকির মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছালো ইউরোপীয় সেনা স্টারমারের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ন্যাটোর সব সদস্য দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ-এই অবস্থান তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটোর সম্মিলিত নিরাপত্তার প্রশ্নে মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা ভুল। এছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে শুল্কের হুমকি অগ্রহণযোগ্য এবং কোনো ভয়-ভীতি দিয়ে প্রভাবিত করা যাবে না। তথ্যসূত্র: রয়টার্স