মেরাজে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য নবীজির ৩ মহামূল্যবান উপহার

ইসলামের ইতিহাসে ইসরা ও মিরাজ এক অনন্য ও বিস্ময়কর ঘটনা। এই মহান রজনীতে আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সশরীরে আসমানের ঊর্ধ্বে ডেকে নেন। সেখানে আল্লাহ তাআলা নবীজি মিরাজে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এমন তিনটি অতুলনীয় দান প্রদান করেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতের জন্য রহমত, হিদায়াত ও মুক্তির পথনির্দেশনা হয়ে থাকবে।নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, أُعْطِيتُ ثَلَاثًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي আমাকে তিনটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকেই দেওয়া হয়নি।  (সহিহ মুসলিম:১৭৩)  এই তিনটি মহামূল্যবান দান হলো, আরও পড়ুন: অজু ছাড়াও করা যায় নবীজির প্রিয় ৩ জিকির প্রথম দান পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ মিরাজের রাতে আল্লাহ তাআলা উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন। শুরুতে তা পঞ্চাশ ওয়াক্ত ছিল, পরে আল্লাহর রহমতে তা পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত হয়; কিন্তু সওয়াব রাখা হয় পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান।নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, يا محمَّدُ: إنَّهُ لا يُبَدَّلُ القولُ لديَّ، وإنَّ لَكَ بِهذِهِ الخمسِ خَمسينَ হে মুহাম্মদ! আমার সিদ্ধান্ত কখনো পরিবর্তিত হয় না। এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিনিময়ে তোমার জন্য রয়েছে পঞ্চাশ ওয়াক্তের সওয়াব। (সহিহ মুসলিম:১৬৩)১. বান্দা ও আল্লাহর সরাসরি সংযোগের মাধ্যম ২. কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবেদ্বিতীয় দান সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত মিরাজের রাতে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে যে বিশেষ নিয়ামত দেওয়া হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫–২৮৬)। এই আয়াত দুটি সাধারণভাবে নাজিল হয়নি; বরং আরশের নিচে অবস্থিত এক বিশেষ ভাণ্ডার থেকে সরাসরি দান করা হয়েছে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, أُعْطِيتُ خَوَاتِيمَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ مِنْ كَنْزٍ تَحْتَ الْعَرْشِ আমাকে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত আরশের নিচের এক ভাণ্ডার থেকে দেওয়া হয়েছে। (মুসনাদু আহমদ:২৩৮২) এই আয়াত দুটি পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা রাতের ইবাদতে যথেষ্ট হয়ে যায়, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করে, তা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। (সহিহ  মুসলিম:৮০৭)শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত ২. রাতের ইবাদতের পূর্ণতা লাভ, আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ হেফাজত। এই আয়াতগুলো ঘুমানোর আগে পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ১. শয়তানের কুমন্ত্রণা ২. অশুভ শক্তি ৩.অজানা বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তৃতীয় দান  শিরক ব্যতীত সকল গুনাহ ক্ষমার সুসংবাদ মিরাজের রাতে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য আরেকটি মহান সুসংবাদ দেওয়া হয়, যে ব্যক্তি শিরক থেকে বেঁচে থাকবে, আল্লাহ তাআলা তার অন্যান্য গুনাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, يا بنَ آدمَ ! لو بلغتْ ذنوبُك عنانَ السَّماءِ، ثمَّ استغفرتني لغفرتُ لك ولا أُبالي، يا بنَ آدمَ ! لو أتيتَ بقِرابِ الأرضِ خطايا، ثمَّ لقيتني لا تشركُ بي شيئًا، لأتيتُك بقِرابِها مغفرةً হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশের প্রান্ত পর্যন্তও পৌঁছে যায়, তারপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি অবশ্যই তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি কোনো পরোয়া করি না।হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবীভর্তি পাপ নিয়েও আমার কাছে উপস্থিত হও,কিন্তু আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করো,তবে আমিও পৃথিবীভর্তি ক্ষমা নিয়ে তোমার সামনে হাজির হব। (সুনানুত তিরমিজি:৩৫৪০) কুরআনে আল্লাহ বলেন, إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ  নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না। (সুরা নিসা:৪৮)১ তাই তাওহিদ হলো মুক্তির মূল চাবিকাঠি২.শিরক থেকে বাঁচলেই রহমতের দরজা উন্মুক্ত ইসরা ও মিরাজ শুধু অলৌকিক সফরের ঘটনা নয়; বরং এটি উম্মতে মুহাম্মদির জন্য নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য, কুরআনের মাধ্যমে হেফাজত ও ক্ষমা,  তাওহিদের মাধ্যমে চিরস্থায়ী মুক্তির বার্তা। এই তিনটি দান আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই হলো মিরাজের প্রকৃত শিক্ষা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই নেয়ামতগুলোর কদর করার তাওফিক দান করুন। আমিন।