বিদেশি নাগরিকত্বের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: এম এ কাইয়ুম

ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে রিপাবলিক অব ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ ও সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তিনি।রোববার (১৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি করেন। ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে যে আমি ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক এবং সেখানে আমার বাড়ি বা বিনিয়োগ রয়েছে। এসব তথ্য মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ। ভানুয়াতুতে আমি কখনো পা ফেলিনি এবং অন্য কোনও দেশের দ্বৈত নাগরিক হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষাও আমার কখনো ছিল না।তিনি জানান, ২০১১ সালের শুরু থেকে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে তাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার গুমের চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেন।ড. এম এ কাইয়ুম আরও জানান, রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর থেকে তিনি রিফিউজি কার্ড পেয়েছিলেন। যখন তৎকালীন সরকার আমাকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তখন আমি মালয়েশিয়ায় একটি শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় এক মাস অবস্থান করি। কেবলমাত্র ইউএনএইচসিআরের রিফিউজি কার্ড থাকার কারণেই মালয়েশিয়ান হাইকোর্ট আমাকে ডিপোর্ট হতে দেয়নি।আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার আদর্শে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: ড. এম এ কাইয়ুমতিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ও দেশ পুনরায় স্বাধীন পরিবেশ ফিরে পাওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তিনি স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কথিত পাসপোর্ট বা ডকুমেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেটে যেসব ফেক ডকুমেন্টের ছবি ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর সাক্ষর আমার প্রকৃত সাক্ষরের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। এগুলো সম্পূর্ণ জাল।নির্বাচনী প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে , কখনও বলা হচ্ছে আমি ভানুয়াতুতে বড় বিনিয়োগকারী, কখনও বলা হচ্ছে সেখানে আমার সম্পত্তি রয়েছে। বাস্তবে এসবের কোনও ভিত্তি নেই।ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, আমি সবসময় সত্য যাচাইয়ের পক্ষে এবং অপপ্রচারের বিপক্ষে। ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হলে রাজনীতিতে মিথ্যাচার না করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।