চিকিৎসা শাস্ত্রে কোলন ক্যানসার বলতে মলাশয়ের ক্যানসারকে বোঝানো হয়ে থাকে। এই ক্যানসারটিকে বৃহদান্ত্রের ক্যানসার, অন্ত্রের ক্যানসার বা কোলোরেকটাল ক্যানসারও বলা হয়। কোলন সাধারণত খাদ্য শোষণ এবং শরীর থেকে বর্জ্য নির্মূলের কাজ করে থাকে।পরিপাক ক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কোলন বা মলাশয়। এটি দেখতে অনেকটা টিউব আকৃতির মতো। এর একটি অংশ সিকাম যা উদর বা এবডমিনের ঠিক নিচের ডান পাশের এবং এটা ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ প্রান্তে ইলিয়াম নামক অংশটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সিকাম ছাড়া অন্য অংশটি চারভাগে বিভক্ত। চিকিৎসা শাস্ত্রে এই চারটি অংশের নাম হলো এসেনডিং, ডিসেনডিং,ট্রান্সভারস এবং সিগময়েড কোলন। প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মানুষের কোলন প্রায় চার থেকে ছয় ফুট লম্বা হয়। কোলনের গড় ডায়ামিটার বা ব্যাস প্রায় আড়াই ইঞ্চির মতো হয়ে থাকে। নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কোলন ক্যানসার হয়ে থাকে। তবে নারীদের ক্ষেত্রে কোলোরেকটাল এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে রেকটাল ক্যানসার বেশি হতে দেখা যায়। ৫০ বা তার বেশি বয়সের নারী পুরুষরা এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ কোলন ক্যানসারের সঠিক কারণ এখনও অজ্ঞাত। তবে চিকিৎসকরা বলছেন যদি পরিবারে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকে তবে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যাদের ব্রেসট, ইউটেরিন বা ওভারিয়ান ক্যান্সার হওয়ার পূর্ব রেকর্ড রয়েছে তাদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনও কোলন ক্যানসারের একটি বড়ো কারণ। বাইরের খাবার কিংবা প্রসেস করা খাবার, ফাস্ট ফুড, ফ্রজেন খাবার, তেল চর্বি বা মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণের মধ্যে রয়েছে। যাদের ওজন বেশি, ধূমপান বা মদপান, ব্যায়াম না করা, খাবারে ফাইবার যুক্ত খাবারের অভাব এই সব কারণকেও চিকিৎসকরা কোলন ক্যানসারের কারণ বলে চিহ্ণিত করেছেন। শরীরে পলিপের অস্তিত্বও কোলন ক্যানসারের কারণ হতে পারে। লক্ষণ এই ক্যানসারে আক্রান্ত হলে আপনার শরীরে কিছু উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দেবে। শরীরে ক্যানসারের বীজ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই উপসর্গের মাত্রার তীব্রতাও বেড়ে যাবে। শরীরে কোলন ক্যানসার দানা বাঁধলে যেসব উপসর্গ রোগীর মধ্যে দেখা যায় তা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘনঘন মলত্যাগ, ডায়রিয়া, অল্প পরিমাণে পায়খানা হওয়া, পায়খানার রং পরিবর্তন, পায়খানা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমে আসা, মলের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, প্রায়ই পেটে ব্যথা অনুভব হওয়া, পেটে গ্যাসের সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়া, বমিভাব, ওজন কমে যাওয়া, শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার অভাব, দুর্বল ও ক্লান্তি অনুভব করা ইত্যাদি। তবে ক্যানসারের চূড়ান্ত পর্যায় না হওয়া পর্যন্ত অনেক সময় রোগীর মধ্যে কোনো উপসর্গ নাও দেখা যেতে পারে। আরও পড়ুন: মরণব্যাধি ক্যানসার শরীরে বাসা বাঁধে যেভাবে টেস্ট বা পরীক্ষা: কোলনস্কোপি বা বেরিয়াম এনিমা এক্সরে করলে কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসা: চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগী ও তার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য নেন। এরপর টেস্টের ফলাফলের ওপর সিদ্ধান্ত নেন কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি ও সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা করার। এই সব চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে দেওয়া হয় একটি ডায়েট লিস্ট এবং মেডিটেশন। আরও পড়ুন: পাকস্থলী ক্যানসারের লক্ষণ কী কী, জানুন বিস্তারিত