বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) স্বতন্ত্রপ্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ অবস্থায় দেশের যেকোনো আসনে ৫ আগস্টের মতো প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুমিন ফারহানা এ হুঁশিয়ারি দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ‘আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দেখানো বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা বলতে গিয়ে আমি এ রকমটা দেখিয়েছি।’ এ সময় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিপরীতে উল্টো প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার এক অপরাধের বিরুদ্ধে (যদি হয়ে থাকে) তিনবার সাজা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমি এমন প্রশাসনের অধীনে কীভাবে নির্বাচন করি, যারা অলরেডি পক্ষপাত করছেন। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব শোকসভার নামে সমাবেশ করছে। স্টেজ করে মাইক দিয়ে সমাবেশ করছে। গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আরও পড়ুন: ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে উদ্ধত আচরণ, রুমিন ফারহানাকে শোকজ রুমিন বলেন, সকালে আমি রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এদিকে রুমিন ফারহানাকে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য বলেছেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক। রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অভিযোগ আনা হয়। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে গত শনিবার এ চিঠি পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘণ। তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ ভেঙে দেয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে আক্রমনাত্মকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন এবং আঙুল উঁচিয়ে বারবার হুমকি প্রদর্শন করেন।  আরও পড়ুন: ‘মব’ সৃষ্টি ও নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন রুমিন ফারহানা, অভিযোগ ম্যাজিস্ট্রেটের চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ মারমুখী আচরণ করেন। এতে মব সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান করেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এদিকে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছে এক মত বিনিময়কালে রুমিন বলেছেন, আশাকরি প্রশাসন, পুলিশ, কমিশন, সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে ডান চোখ, কাউকে বাম চোখে দেখবেন না। আপনাদেরকে ৫ আগস্টের কথা মনে রাখতে হবে। নিরপেক্ষতা না থাকলে সারা বাংলাদেশে যেমন ৫ আগস্ট হয়েছিল, তেমনিভাবে যেকোনো আসনে ৫ আগস্ট ঘটতে পারে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।