সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে আসন্ন গণভোট নিয়ে অপপ্রচার চলছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্ট বিভাগ। ফেসবুকে ফ্যাক্ট বিভাগের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এটি সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। পোস্টে বলা হয়, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পোস্ট’-এর ফেসবুক এবং ইউটিউবে “গণভোট: ‘হ্যাঁ’ জিতলে আরও ৬ মাস ইউনূস সরকার; ‘না’ জিতলে কী?” শিরোনামে প্রকাশিত ভিডিওতে গণভোট নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, ‘হ্যাঁ ভোট জেতার একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। হ্যাঁ জিতলে নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকার গঠিত হবে না।’ আরও বলা হয়, ‘নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত এমপিরা তখন একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ হিসেবে বসবেন। তাদের হাতে সময় থাকবে ১৮০ দিন বা ছয় মাস। এই ছয় মাস ধরে তারা সংবিধান কাটছাঁট করবেন। নতুন আইন পাস করবেন। ততদিন ক্ষমতায় কে থাকবে? ডক্টর ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার থাকবে ততদিন। মানে নির্বাচনের পরও আরও ছয় মাস ইউনুস সরকার ক্ষমতায় থেকে যেতে পারে।’ এ দাবি সত্য নয় উল্লেখ করে ফ্যাক্ট বিভাগ জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। অর্থাৎ সরকার হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই কাজ করবেন, অন্তর্বর্তী সরকার নয়। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের বরাত দিয়ে ফ্যাক্ট বিভাগ আরও জানায়, সংসদ অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হবে। তখন থেকে সংসদের আর দ্বৈত ভূমিকা থাকবে না, জনপ্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। এই আদেশে ১৮০ দিন অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে এমন কোনো ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং, স্পষ্ট করেই সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। এমইউ/একিউএফ