নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ভিতরে পরিবারসহ দুই শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার বেয়াইখানার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে মহিলা হাজতখানার ভিতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটেছে। সংবেদনশীল স্থানে অনুষ্ঠিত এ ঘটনার একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন হত্যা-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে নোয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন।সম্প্রতি জেলখানায় দুই নেতার কথাবার্তার পর কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থিকে হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের সঙ্গে বিয়ে দেন। গত ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) পারিবারিকভাবে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।এদিকে, সোমবার দুই নেতাকে মামলায় হাজিরা করার জন্য আদালতে নিলে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা হাজতখানার মধ্যে বেয়াইখানার আয়োজন করে। এ সময় মহিলা আসামিদের জন্য সংরক্ষিত ওই হাজতে আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও এক যুবক উপস্থিত ছিলেন।হাজতখানার ঘটনাটি জানার জন্য আজম পাশা চৌধুরীর স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাবিককে বারবার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি।আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় আরও একাধিক মামলা চলমান আছে। অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ ঘটনার অনুসন্ধানে আদালতে গেলে মহিলা হাজতখানার ভেতরে সুরক্ষিত ওই কক্ষটি দেখতে পান এ প্রতিবেদক। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, নিজেদের পোশাক পরিবর্তন, খাওয়া, নামাজসহ নারী আসামিদের বাচ্চাদের দুগ্ধপানের জন্য ব্যবহৃত হয় ওই কক্ষটি।আরও পড়ুন: গাজীপুরে আদালতের হাজতখানায় সাক্ষাৎ বাণিজ্যের অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহারআদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভুঁইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম।বেয়াইখানার বিষয়ে জানতে চাইলে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম বলেন, চিফ জুডিশিয়াল ও জজ আদালতের দুই হাজতখানায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি বন্টন করে আমি ওই সময় আদালতের কাজে উপরে ছিলাম। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকালে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনিয়ম আদালত পাড়ায় না হয় তার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আদালতের সুরক্ষিত স্থানে আসামি ছাড়া কারও যাওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা গুরুতর অন্যায়। তদন্ত করে এ ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।