উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক জনপদ রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন বাঘা শাহী জামে মসজিদ আজও ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিক স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এই প্রাচীন মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার হুসেন শাহী বংশের শাসক সুলতান নসরত শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। তারও আগে হজরত শাহ দৌলাহ (রহ.) এ অঞ্চলে এসে ইসলাম প্রচার করেন এবং বাঘা এলাকাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে এ অঞ্চলকে ঘিরেই গড়ে ওঠে একটি সমৃদ্ধ জনপদ। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে মসজিদটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন। এতে আছে ১০টি গম্বুজ, চার কোণায় চারটি মিনার এবং অভ্যন্তরে একাধিক মজবুত স্তম্ভ, যা পুরো কাঠামোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে রেখেছে। মসজিদের দেওয়ালজুড়ে টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ মধ্যযুগীয় শিল্পরীতির এক অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে ফুল-লতা ও জ্যামিতিক নকশার অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। মসজিদটির চারপাশের পরিবেশও অত্যন্ত মনোরম। বিস্তীর্ণ পুকুর, সবুজ বৃক্ষরাজি এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ, ছুটির দিন ও শীত মৌসুমে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়। আরও পড়ুন৫০০ বছরের পুরোনো ‘ইমামবাড়ি’ সংরক্ষণের দাবি স্থানীয়দের কাছে এ মসজিদ শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয় বরং এটি তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রতিদিন এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয় এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা স্থাপনাটিকে একটি জীবন্ত ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে। সচেতন মহল মনে করেন, এত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আরও কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বাঘা শাহী জামে মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘এই মসজিদ আমাদের গর্ব। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে আসে। এটি শুধু একটি মসজিদ নয়, আমাদের ইতিহাসের অংশ।’ দর্শনার্থী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘প্রথমবার এসে মসজিদের টেরাকোটার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এত পুরোনো স্থাপনা হয়েও এখনো এত সুন্দরভাবে দাঁড়িয়ে আছে, এটি সত্যিই বিস্ময়কর।’ সাখাওয়াত হোসেন/এসইউ