ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে একদিকে আলোচনা অন্যদিকে হামলার হুমকি দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এমন উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এমএস নাও-কে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলতি সপ্তাহের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানায়নি এবং তেহরানও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিতের কোনো প্রস্তাব দেয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমরা একটি পাল্টা খসড়া প্রস্তাব তৈরি করব, যা আমাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করবেন।’ ওমানের মধ্যস্থতায় চলতি মাসের শুরুর দিকে পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। প্রথম দফায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের মাসকটে এবং দ্বিতীয় দফায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষই এই দুই বৈঠককে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করে। আরও পড়ুন: উত্তেজনা তুঙ্গে, ইরানে হামলার পরিকল্পনা স্বীকার করলেন ট্রাম্প কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।ে ট্রাম্পের এই আলটিমেটামের জবাব দেয় ইরান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরসকে লেখা এক চিঠিতে তেহরান জানায়, সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা শত্রুদের ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হবে। চিঠিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী দূত জানান, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ‘সামরিক আগ্রাসনের প্রকৃত ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়’। চিঠিতে আরও বলা হয়, সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে ইরান ‘সিদ্ধান্তমূলক’ জবাব দেবে। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন: কাতার ও বাহরাইন থেকে কয়েকশ সেনা সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র এরপর স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানকে চাপে রাখতে সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস। তবে তেহরানকে অবশ্যই একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও এই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন হুমকির মুখেও ইরানের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার মার্কিন টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেই বার্তাই দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি। তিনি জানান, আলোচনার পর একটি খসড়া প্রতিক্রিয়ার প্রস্তাব কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হতে পারে। আরও পড়ুন: ট্রাম্পের আলটিমেটামের জবাব দিলো ইরান খসড়া প্রস্তাব তৈরির পর খুব কাছাকাছি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আরাঘচি। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের কাছে কবে নাগাদ এই পাল্টা প্রস্তাব জমা দেয়া হবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেনি তিনি। আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘কূটনৈতিক সমঝোতা সম্ভব এবং তা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অর্জন করা যেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন পরমাণু কর্মসূচি ও সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ রাখার বিষয়ে আলোচনা করছি।’ পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক আস্থা তৈরির জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আব্বাস আরাঘচি। একইসঙ্গে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রও নিষেধাজ্ঞা তোলার বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নেবে বলে তেহরান আশা করছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরাঘচির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।