বাঙালির হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা: ফুলে ফুলে ভরে গেছে শহীদ মিনারের বেদি

একুশের প্রথম প্রহর থেকে শুরু হওয়া জনস্রোত ভোরের আলো ফুটতেই রূপ নিয়েছে মহাসমুদ্রে। নগ্ন পা আর হাতে শিমুল-পলাশ কিংবা শুভ্র সব ফুলের তোড়া নিয়ে লাখো মানুষের গন্তব্য এখন একটিই–কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।বাঙালির প্রাণের এই মিনারের বেদি এখন ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে, যেখানে মিশে আছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের গভীর শ্রদ্ধা। শোকের কালো আর সংগ্রামের রক্তিম রঙে একাকার হয়ে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা যেন হয়ে উঠেছে একুশের অবিনাশী চেতনার প্রাণকেন্দ্র। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সারি পলাশী হয়ে জগন্নাথ হল ক্রসিং পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর যখন সাধারণের জন্য বেদি উন্মুক্ত করা হয়, তখন থেকেই শুরু হয় এই অভূতপূর্ব পুষ্পবৃষ্টি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারের মূল বেদি আর দেখা যাচ্ছে না, কেবলই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে অগুনতি ফুলের স্তূপ।মাথা নত না করার একুশকে শ্রদ্ধা জানাতে ছোট পায়ে স্মৃতির মিনারে শিশুরা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অগ্রজদের আত্মদান আর জাতির শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে অভিভাবকরা নিয়ে এসেছেন সন্তানকে। আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল: বিনম্র শ্রদ্ধায় অমর একুশে পালনসকাল থেকেই রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের হিড়িক পড়ে যায়; যার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ-অধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের মতো রাজনৈতিক দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর মতো ছাত্র সংগঠনগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জুলাই ঐক্য, জুলাই মঞ্চের মতো সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।শহীদ মিনারে আসা মানুষের কণ্ঠে যেমন ছিল অমর একুশের সেই বিষাদমাখা সুর, তেমনি চোখেমুখে ছিল নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আর ভাষাশহীদদের আদর্শ ধারণের দৃঢ় সংকল্প।চারদিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা আর স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সবাই। ফুলের চাদরে ঢাকা পড়া এই বেদি আজ কেবল স্মৃতির মিনার নয়, বরং বাঙালির আত্মপরিচয় আর মাথা নত না করার অমর অহংকার।