রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার ১৭ পেরিয়ে ১৮ বছরে পদার্পণ করলেও এখনও নেই স্থায়ী কোনো শহীদ মিনার। প্রতিবছর শহীদ দিবসসহ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বেরোবিতে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন অবশ্যই সম্ভব হতো।জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কাপড় দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদদের সম্মান জানানো হতো। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাপড় দিয়ে বানানো শহীদ মিনার দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর সম্মান রক্ষার্থে ২০১২ সালে তড়িঘড়ি করেই কংক্রিটের অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম বলেন, শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্মারক। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ী শহীদ মিনারেই আমাদের শ্রদ্ধা জানাতে হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করার জন্য শহীদ মিনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতীক। আমাদের প্রত্যাশা প্রশাসন একটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আরও পড়ুন: ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বারের জাদুঘরে নেই কোনো স্মৃতির বাহক, খোঁজ রাখে না কেউ বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই যেখানে শহীদ মিনার নেই। আমাদের প্রতিষ্ঠানে যেহেতু অস্থায়ী আছে; আমরাও বর্তমান প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, আমাদেরও একটি স্থায়ী শহীদ মিনার হোক। আমরাও যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে ফুল দিতে পারি। শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে এটা দরকার। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কমলেশ চন্দ্র সরকার বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে, আমার জানা মতে, শহীদ মিনার সেই প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সেই প্রজেক্ট পাশ হলে তবেই এটি হবে।