কড়া ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চা আর যোগাভ্যাস ফিটনেস নিয়ে জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের সচেতনতা নতুন কিছু নয়। শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতে আসার পর থেকেই তিনি জীবনযাপনে আনেন শৃঙ্খলা। বলি অঙ্গনে তার সুঠাম চেহারা ও ফিটনেস রুটিন নিয়ে আলোচনাও কম হয়নি। তবু সব নিয়মের মাঝেও একটি খাবারের কাছে হার মানেন তিনি, সেটি হলো কোট্টু রুটি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জ্যাকলিন জানিয়েছেন, এই ঝাল-মশলাদার খাবার চোখের সামনে এলে ডায়েটের কথা আর মনে থাকে না। তার ভাষায়, ‘চিট মিল’ মানেই কোট্টু রুটি। কী এই কোট্টু রুটি? শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড কোট্টু রুটি অনেকটা মুম্বাইয়ের পাওভাজির মতোই সেখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। রাতের বাজার হোক বা রাস্তার ধারের দোকান গরম তাওয়ায় ঝনঝন শব্দ তুলে তৈরি হয় এই পদ। এর মূল উপাদান রুটি বা পাতলা পরোটা। সেই রুটিকে ছোট ছোট টুকরোয় কেটে নেওয়া হয়। তারপর বড় তাওয়ায় বিভিন্ন সবজি, ডালনা বা তরকারির ঝোলের সঙ্গে কুচি করা রুটি একসঙ্গে ভাজা হয়। যোগ হয় সুগন্ধি মশলা। পুরো প্রক্রিয়ায় রুটি ও মশলা এমনভাবে মিশে যায় যে আলাদা করে কিছু বোঝার উপায় থাকে না তৈরি হয় একদম আলাদা স্বাদের মিশ্র পদ। চিকেন দিয়ে যেমন বানানো যায়, তেমনই নিরামিষভাবেও এই পদ জনপ্রিয়। জ্যাকলিন যেহেতু আমিষ ত্যাগ করেছেন, তাই তার পছন্দ ভেজ কোট্টু রুটি। শুধু রুটি-তরকারি মেশানো নয় অনেকেই ভাবেন, কোট্টু রুটি মানে বাকি থাকা রুটি আর তরকারি একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া। আসলে বিষয়টি তেমন সরল নয়। এটি তৈরির রয়েছে নির্দিষ্ট কৌশল। তাওয়ার উপর দ্রুত কুচি করা, একসঙ্গে ভাজা ও মশলার সঠিক মিশ্রণই এনে দেয় এর আসল স্বাদ। তবে বাড়িতে রুটি বা তরকারি বেঁচে গেলে সেটিকে নতুন রূপ দিতে কোট্টু রুটির পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে। সামান্য কায়দা জানলেই সাধারণ উপকরণ দিয়েও তৈরি করা যায় মুখরোচক এই পদ। তামিলনাড়ুতেও এই খাবারের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় রয়েছে, যার নাম ‘কোথু পরোটা’। সেখানেও কুচি করা পরোটা ও মশলাদার সবজি বা মাংস একসঙ্গে তাওয়ায় ভাজা হয়। স্বাদে মিল থাকলেও অঞ্চলভেদে মশলার ব্যবহার ও প্রস্তুত প্রণালীতে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। ফিটনেস সচেতন জ্যাকলিনের জন্য তাই কোট্টু রুটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং শৈশবের স্বাদ আর শ্রীলঙ্কার স্মৃতির টান। কড়া ডায়েটের মাঝেও মাঝেমধ্যে এমন এক ‘চিট মিল’ হয়তো শরীরের পাশাপাশি মনকেও তৃপ্তি দেয়। জেএস/